

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর সরকার ডিজেলচালিত গণপরিবহনের ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করলেও রাজধানীর সড়কে সিএনজিচালিত বাসে নেওয়া হচ্ছে ডিজেলের বর্ধিত ভাড়া। গ্যাসচালিত বাসের ভাড়া অপরিবর্তিত রাখার সুস্পষ্ট সরকারি নির্দেশনা থাকলেও তা অমান্য করে যাত্রীদের কাছ থেকে ইচ্ছেমতো বাড়তি অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন পরিবহন শ্রমিকরা। এতে কিলোমিটার প্রতি ১৭ পয়সা ভাড়া বৃদ্ধির বিপরীতে যাত্রীদের গুণতে হচ্ছে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত টাকা।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সাম্প্রতিক প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে ডিজেলচালিত বাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ২ টাকা ৫৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ৭০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী গ্যাসচালিত বাসগুলোও ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, দিয়াবাড়ী থেকে পোস্তগোলা রুটে চলাচলকারী রাইদা এন্টারপ্রাইজসহ একাধিক পরিবহনের বাসে সিএনজি মিটার সক্রিয় থাকা সত্ত্বেও ডিজেল বাসের নতুন চার্ট দেখিয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে। ক্ষেত্রবিশেষে ১০ টাকার ভাড়া এক লাফে ১৫ টাকা এবং ২০ টাকার ভাড়া ৩০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ যাত্রীদের।
সিএনজির দাম বাড়েনি, তাই সিএনজিচালিত যানবাহনের ভাড়া বাড়ার কোনো সুযোগ নেই। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে রুট পারমিট বাতিল করা হবে। - শেখ রবিউল আলম, মন্ত্রী, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়
বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) ভাড়ার তালিকা অনুযায়ী নতুনবাজার থেকে রামপুরা পর্যন্ত দূরত্ব ৪ দশমিক ৬ কিলোমিটার, যার নির্ধারিত ভাড়া সর্বোচ্চ ১২ টাকা। অথচ রাইদা পরিবহনের বাসে যাত্রীদের থেকে সরাসরি ১৫ টাকা নেওয়া হচ্ছে। অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে বাস শ্রমিকরা প্রায়শই খুচরা পয়সা না থাকার অজুহাত দিচ্ছেন। এদিকে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল আলম জানান, রাজধানীতে সিএনজিচালিত বাসের সংখ্যা এখন খুবই কম এবং তাদের কোনো বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়নি। তবে তিনি দাবি করেন, ডলারের মূল্যবৃদ্ধি ও যন্ত্রাংশের দাম বাড়ার কারণে বর্তমান ভাড়ায় বাস চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে এবং পরিবহন খাত টিকিয়ে রাখতে প্রতি কিলোমিটার ভাড়া সাড়ে চার থেকে পাঁচ টাকা নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজধানীতে গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে সমন্বিত ব্যবস্থার বিকল্প নেই। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সহকারী অধ্যাপক ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ কাজী মো. সাইফুন নেওয়াজ জানান, পৃথক কোম্পানির কারণে সড়কে কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না। শৃঙ্খলা ফেরাতে দ্রুত বাস রুট ফ্র্যাঞ্চাইজি চালু করে ই-টিকিটিং ব্যবস্থা কার্যকর করতে হবে, যাতে কোনো চালক বা কন্ডাক্টরের পক্ষে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা সম্ভব না হয়।