

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রেক্ষাপটে রাজধানীতে গণপরিবহনের ভাড়া এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে, নতুন করে বাসভাড়া বাড়ানো হবে কি না, সে বিষয়ে মালিক পক্ষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় দিন গুনছেন পরিবহন শ্রমিকেরা। অন্যদিকে, ভাড়া বাড়লে দৈনন্দিন যাতায়াত খরচ আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। সোমবার রাজধানীর রায়েরবাগ থেকে গুলিস্তান, পল্টন ও আশপাশের বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী বাসের চালক, সুপারভাইজার এবং যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে এ চিত্র পাওয়া গেছে।
রাজধানীর বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী বাসগুলোর চালক ও সুপারভাইজারদের ভাষ্য অনুযায়ী, তেলের দাম বাড়ার ফলে গাড়ি পরিচালনার খরচ অনেকটাই বেড়ে গেছে। বর্তমান আয়ে গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ ও দৈন্যদিনের খরচ মেলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। তবে মালিক পক্ষ বা নির্দিষ্ট পরিবহন সমিতি থেকে কোনো ধরনের নির্দেশনা না পাওয়ায় তাঁরা এখনো আগের নির্ধারিত ভাড়াই আদায় করছেন যাত্রীদের কাছ থেকে।
তেলের দাম বেড়েছে, এটা আমরা জানি। কিন্তু এখনো ভাড়া বাড়ানোর কোনো নির্দেশনা পাইনি। মালিকপক্ষ ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলে তখন নতুন ভাড়া কার্যকর হবে।
বাসের চালক ও শ্রমিকদের এই বক্তব্যের পাশাপাশি যাত্রীদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। স্বল্প আয়ের মানুষ ও চাকরিজীবীরা বলছেন, নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যের বাজারে নতুন করে বাসভাড়া বাড়লে তাঁদের পারিবারিক বাজেট মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। অনেক যাত্রী অভিযোগ করেন, অনেক সময় বাসে ওঠার পর ভাড়া নিয়ে বাকবিতণ্ডা তৈরি হয়। তাই ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হলে তা যেন একটি নির্দিষ্ট ও যৌক্তিক কাঠামোর মধ্যে হয়, সেই দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর পরিবহন খাতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ব্যয় বেড়ে যায়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে বাস পরিচালনার ওপর। তবে হুট করে ভাড়া বাড়িয়ে যাত্রীদের ওপর চাপ সৃষ্টি না করে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রশাসনিক ও মালিক পক্ষের সমন্বয়ে একটি সুশৃঙ্খল সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। অতীতেও জ্বালানি মূল্য পরিবর্তনের পর ভাড়া সমন্বয়ের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে শ্রমিকেরা মালিক পক্ষের নির্দেশের অপেক্ষায় থাকলেও সাধারণ commuters বা যাত্রীরা স্থায়ী ও জনবান্ধব সমাধানের দাবি জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, খুব দ্রুতই পরিবহন মালিক সমিতি ও সরকারের নীতিনির্ধারক মহলের বৈঠকের মাধ্যমে বাসভাড়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সুরাহা আসতে পারে। ততক্ষণে আগের নিয়মেই রাজধানীর সড়কগুলোতে চলছে গণপরিবহন।