

পুরান ঢাকার চকবাজারের মনসুর খান প্লাজায় সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেলে লাগা ভয়াবহ আগুন নেভাতে গিয়ে আবারও এলাকাটির চরম অগ্নিঝুঁকি ও অব্যবস্থাপনার চিত্র সামনে এসেছে। সাততলা বিশিষ্ট এই ভবনের ষষ্ঠ তলার একটি দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়, যা পরে গুদামগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট দীর্ঘ প্রচেষ্টায় মঙ্গলবার ভোর ৫টা ২০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। তবে সরু গলি, তীব্র যানজট এবং ভবনের ভেতর পর্যাপ্ত অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাবে উদ্ধারকাজ অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়েছিল।
ঘটনার প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত জানুয়ারি মাসে ফায়ার সার্ভিস ভবনটি পরিদর্শন করে অগ্নিনিরাপত্তার ঘাটতি চিহ্নিত করেছিল। এ বিষয়ে ভবন মালিককে নোটিশ দেওয়া হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সদর দপ্তরের মিডিয়া সেলের প্রধান শাহজাহান শিকদার জানান,
গত জানুয়ারিতে ইন্সপেকশন বিভাগের পরিদর্শনের পর অগ্নিনিরাপত্তার ঘাটতি দেখতে পেয়ে ভবন মালিককে নোটিশ দেওয়া হয়। কিন্তু কোনো জবাব বা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
মনসুর খান প্লাজার এই অগ্নিকাণ্ড পুরান ঢাকার বাণিজ্যিক এলাকাগুলোর অনিয়ন্ত্রিত কাঠামোর দিকে আঙুল তুলছে। ভবনটির ষষ্ঠ ও সপ্তম তলায় থাকা গুদামগুলো কার্যত 'হিট চেম্বার'-এ পরিণত হয়েছিল। ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক কাজী নজমুজ্জামান জানান, গুদামগুলো তালাবদ্ধ থাকায় এবং ভেতরে ধোঁয়া বের হওয়ার পর্যাপ্ত পথ না থাকায় আগুন নেভাতে কর্মীদের বাড়তি ঝুঁকি নিতে হয়েছে। এছাড়া সিঁড়িতে মালামাল রাখায় জরুরি বহির্গমন পথও ছিল সংকুচিত।
ফায়ার সার্ভিসের সাবেক পরিচালক মেজর (অব.) এ কে এম শাকিল নেওয়াজ এই পরিস্থিতিকে 'টাকার খেলা' হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, আবাসিক ভবনকে অপরিকল্পিতভাবে বাণিজ্যিক গুদামে রূপান্তর এবং লাইসেন্স প্রদানকারী সংস্থাগুলোর তদারকির অভাবই বারবার এমন দুর্ঘটনার জন্ম দিচ্ছে। বৈদ্যুতিক ত্রুটি বা ইচ্ছাকৃত নাশকতা, উভয় সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
পুরান ঢাকার ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় একের পর এক অগ্নিকাণ্ড যেমন নিমতলী, চুড়িহাট্টা বা আরমানিটোলার ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে এখন সমন্বিত প্রশাসনিক পদক্ষেপের দাবি উঠেছে। ভবনগুলোতে অগ্নিনিরাপত্তা বিধি কঠোরভাবে প্রয়োগ না করলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।