

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে নতুন হামলা চালানো এই মুহূর্তে সুবিধাজনক নয় বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। গত বুধবার ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল-১২ এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। তবে ঠিক কী কারণে এই হামলাটি এখন সুবিধাজনক মনে করছেন না, সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ জানাননি তিনি। আসন্ন মার্কিন নির্বাচন এবং ইসরায়েলি রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এই মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
প্রতিবেদনে প্রকাশ পায় যে, ইসরায়েলের নির্বাচন হওয়ার আগেই ইরানে আরেকটি সামরিক হামলা চালাতে চাপ দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এমন গুঞ্জনের মধ্যেই গত বুধবার ইসরায়েলি আর্মি রেডিওতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু স্পষ্ট ইঙ্গিত দেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানে বড় ধরনের কোনো সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা তাদের নেই। উল্লেখ্য, আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে জাতীয় পার্লামেন্ট নেসেটের নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে এবং এর ঠিক পরেই আগামী ৪ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
নির্বাচনী রাজনীতির সমীকরণ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে নেতানিয়াহু দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও মন্ত্রিসভা গঠন নিয়েও বড় বার্তা দিয়েছেন। উগ্রপন্থি রাজনীতিবিদ ইতামার বেন গিভির তাকে চাপ দিচ্ছেন যাতে লিকুড পার্টির সঙ্গে জোট করে আবারও ক্ষমতায় গেলে তাকে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে এই দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়ে নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, বেন গিভির এই পদ পাবেন না এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পদটি সম্পূর্ণভাবে লিকুড পার্টির দখলেই থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যেকোনো মুহূর্তে যৌথ সামরিক হামলা চালাতে পারে, এমন আশঙ্কা আগে থেকেই মাথায় রেখে নিজেদের প্রতিরক্ষা ও সামরিক সক্ষমতা জোরদার করছে ইরান। মধ্যপ্রাচ্যের উদ্ভূত এই পরিস্থিতিতে তেহরানও কঠোর অবস্থানে রয়েছে। বিভিন্ন গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, মার্কিনি ও ইসরায়েলিরা যদি বড় কোনো হামলার সুনির্দিষ্ট প্রস্তুতি নিতে শুরু করে, তবে কৌশলগত কারণে ইরান নিজেই আগে আক্রমণ চালাতে পারে। ফলে পুরো অঞ্চল জুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহুর এই মন্তব্য সাময়িকভাবে বড় কোনো যুদ্ধ এড়িয়ে চলার ইঙ্গিত দিলেও মধ্যপ্রাচ্যের ভঙ্গুর ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে যেকোনো মুহূর্তে পরিস্থিতি পাল্টে যেতে পারে। ইসরায়েলের আসন্ন সংসদ নির্বাচন এবং যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ক্ষমতার পালাবদলের ওপর নির্ভর করছে আগামী দিনে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বা শান্তির সমীকরণ। দুই দেশের সামরিক প্রস্তুতি এবং আঞ্চলিক শক্তির দা্যিত্বশীল আচরণের ওপর বিশ্ববাসীর নজর এখন নিবদ্ধ রয়েছে।