

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে সম্প্রতি ইলেকট্রিক শক দিয়ে ছিনতাই শিরোনামে ১ মিনিট ১৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। কিছু অনলাইন গণমাধ্যমও ভিডিওটিকে বাস্তব ঘটনা হিসেবে প্রচার করায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। তবে তথ্য যাচাই করে জানা গেছে, ভিডিওটি কোনো বাস্তব ঘটনার দৃশ্য নয় এবং এটি বাংলাদেশের কোনো ঘটনার সঙ্গেও সম্পর্কিত নয়। এটি মূলত ভারতের একটি ফেসবুক পেজ থেকে প্রকাশিত সাজানো নাট্যাংশ বা সচেতনতামূলক ভিডিওর খণ্ডিত অংশ।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, ব্যস্ত সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এক যুবকের ঘাড়ে তরলজাতীয় কিছু ছিটিয়ে দিয়ে ব্যাগ ও মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে এক কিশোর। দৃশ্যটিকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছিনতাইয়ের নতুন কৌশল হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে। ফেসবুকের ৭০টির বেশি পেজ ও প্রোফাইল থেকে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি মূলধারার গণমাধ্যমের ফেসবুক পেজেই ভিডিওটি দেখা হয়েছে ১ কোটি ৬০ লাখের বেশি বার এবং শেয়ার হয়েছে ৫৮ হাজার বার। এত বিপুল পরিমাণ শেয়ার ও রিঅ্যাকশনের কারণে ভিডিওটি নিয়ে জনমনে বড় ধরনের বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, মূল ভিডিওটি ৩ মিনিট ৫৪ সেকেন্ডের এবং এটি ভারতের উত্তরপ্রদেশের কানপুরভিত্তিক 'The Ghumakkad' নামক একটি ফেসবুক পেজ থেকে গত ৬ অক্টোবর প্রকাশ করা হয়েছিল। পেজটির পরিচিতি অংশে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে যে, তাদের প্রকাশিত সব ভিডিওই কেবল বিনোদন ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে চিত্রনাট্য অনুযায়ী তৈরি। এগুলোকে কোনোভাবেই বাস্তব ঘটনা হিসেবে বিবেচনা না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। মূল ভিডিওর ইংরেজি বর্ণনায়ও এটি কাল্পনিক ও সচেতনতামূলক বলে পরিষ্কার করা হয়েছে।
আধুনিক প্রযুক্তির যুগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোনো ধরনের সত্যতা যাচাই না করেই ভুয়া ও সাজানো ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার প্রবণতা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। বিশেষ করে এআই এবং চিত্রনাট্যভিত্তিক সচেতনতামূলক কনটেন্টগুলোকে যখন মূলধারার অপরাধ হিসেবে চালিয়ে দেওয়া হয়, তখন তা সমাজে আতঙ্ক ছড়ায়। সাইবার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেকোনো ভিডিও পাওয়ার পরই সেটির উৎস ও সত্যতা যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি। অন্ধভাবে কোনো কনটেন্ট বিশ্বাস করা বা শেয়ার করা থেকে বিরত থাকা উচিত।
বর্তমান পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সচেতন মহলের পক্ষ থেকেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এমন অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মূলধারার সংবাদমাধ্যমগুলোরও উচিত কোনো ভিডিও প্রচারের আগে তার সত্যতা নিশ্চিত করা। 'The Ghumakkad' পেজের মতো বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পেজের সচেতনতামূলক ভিডিওগুলোকে আমাদের দেশের অপরাধ হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার এই অপচেষ্টা রোধে সবাইকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।