

সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার জেরে সৃষ্ট অপারেশনাল জটিলতায় ঢাকা থেকে সৌদি আরবগামী ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ফ্লাইট বাতিল হওয়ার ফলে বিপাকে পড়া যাত্রীদের অনেকে বিকল্প রুটে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন, যার ফলে তাঁদের অতিরিক্ত খরচ ও চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এবং বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, অপারেশনাল বিধিনিষেধের কারণে সরাসরি ও ট্রানজিট রুটের শতবাচক ফ্লাইটে বিঘ্ন ঘটেছে।
গত শনিবার রাতে রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার ঘটনার পর থেকেই ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সৌদি আরবগামী বিভিন্ন এয়ারলাইনসের ফ্লাইট অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। বুধবার পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সরাসরি ও ট্রানজিট মিলিয়ে প্রায় ১৫ হাজারের বেশি যাত্রী এই সংকটের কবলে পড়েছেন। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদ ও দাম্মামগামী ফ্লাইট স্থগিত করেছে এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস ২১ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদ রুটের ফ্লাইট বাতিল করেছে।
বিকল্প রুটে যাওয়ার জন্য যাত্রীদের অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হচ্ছে। কিশোরগঞ্জ থেকে আসা জাকির হোসেন জানান, তার নির্ধারিত ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় অতিরিক্ত ১৬ হাজার টাকা পরিশোধ করে মদিনাগামী নতুন টিকিট সংগ্রহ করতে হয়েছে। আরেক যাত্রী আনোয়ার হোসেন জানান, এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে তিনি চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।
বিমান থেকে বলা হয়েছে রুট পরিবর্তন হয়েছে, সে জন্য আরও ১৬ হাজার টাকা দিতে হবে। পরে টাকা দিয়ে টিকিট নিয়েছি, আমার তো যাইতে হবে। - জাকির হোসেন, সৌদি প্রবাসী যাত্রী
বেবিচকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই সংঘাতে মোট ১৫ হাজার ৩৯৩ জন যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন। এর মধ্যে ৪১টি সরাসরি এবং ৫৯টি ট্রানজিট ফ্লাইট রয়েছে। সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১৭টি, ইউএস-বাংলার ১০টি, সৌদিয়ার ৭টি এবং রিয়াদ এয়ারের ৭টি ফ্লাইট রয়েছে। এছাড়া ইন্ডিগো, এমিরেটস ও কাতার এয়ারওয়েজের ট্রানজিট ফ্লাইটগুলোতেও বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে। যাত্রীরা বিমানবন্দরে এসে তথ্য জানতে পেরে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করছেন।
আরও পড়ুন: নিরাপদ অভিবাসনে স্বচ্ছতার তাগিদ রাষ্ট্রপতির
বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীরা বিকল্প হিসেবে জেদ্দা বা মদিনাগামী ফ্লাইটের টিকিট সংগ্রহ করার চেষ্টা করছেন। তবে এয়ারলাইনসগুলোর পক্ষ থেকে যথাযথ সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন অনেক যাত্রী। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও কিছুদিন সময় লাগতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।