

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন অত্যন্ত গোপন চুক্তির আওতায় ২৫ হাজার ৪৪৭ জন অভিবাসীকে তাদের নিজ দেশ বা গন্তব্যস্থল নয়, এমন ৩৫টি তৃতীয় দেশে জোরপূর্বক পাঠিয়েছে। আন্তর্জাতিক অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের নেটওয়ার্ক ফরবিডেন স্টোরিজ-এর সাম্প্রতিক তদন্ত প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ২০২৬ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, এসব অভিবাসীকে ল্যাটিন আমেরিকা, আফ্রিকা ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে স্থানান্তর করা হয়েছে।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ডনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই এই নির্বাসন কার্যক্রম জোরদার করা হয়। যেসব অভিবাসীকে আইনি বা রাজনৈতিক জটিলতার কারণে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব নয়, তাদের গ্রহণ করার জন্য উন্নয়নশীল দেশগুলোর সঙ্গে ওয়াশিংটন একের পর এক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে ট্রাম্প প্রশাসন ৪১ কোটি ডলার বরাদ্দ রেখেছে, যার একটি অংশ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে এবং বাকি অংশ জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থাকে প্রদানের পরিকল্পনা রয়েছে।
এই বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বিশেষ বিভাগ অফিস অব রিইমিগ্রেশন পুরো কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সমালোচনার মুখে পড়া জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এবং শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) দাবি করেছে, অভিবাসীদের সুরক্ষার স্বার্থেই তারা এই তহবিল গ্রহণ করেছে। তবে আইনজ্ঞদের মতে, কোনো অপরাধের অভিযোগ ছাড়াই এসব মানুষকে অপরিচিত দেশে পাঠিয়ে তাদের মৌলিক অধিকার চরমভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, আফ্রিকা মহাদেশের ৪৯টি দেশের সঙ্গে নির্বাসন চুক্তি করতে ওয়াশিংটন বিভিন্ন দেশের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা ও বিধিনিষেধ আরোপের মতো কৌশল ব্যবহার করেছে। মোট বরাদ্দের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার সরাসরি গ্রহণকারী দেশগুলোর সরকার পাচ্ছে। বর্তমানে আরও সাতটি দেশের সঙ্গে একই ধরনের চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
কোনো ধরনের অপরাধের অভিযোগ ছাড়াই এসব নির্বাসিত মানুষকে সম্পূর্ণ অপরিচিত দেশে ফেলে দেয়া হচ্ছে, যেখানে তাদের মৌলিক অধিকারের কোনো নিশ্চয়তা নেই।
বর্তমানে এই নির্বাসন প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ প্রভাব নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। অভিবাসীদের সুরক্ষার দাবি এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে চালানো এই কার্যক্রমের বৈধতা নিয়ে বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার কর্মীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।