

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলামকে আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ঘটনার সূত্রপাত গত রোববার সন্ধ্যায়, যখন শেরেবাংলা নগরের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ম খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়। সোমবার দুপুরে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহতের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ রোববার রাতে শেরেবাংলা নগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় এমপি নজরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী মাকসুদা ইসলামের পাশাপাশি মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকেও আসামি করা হয়েছে। মামলার এজাহারে তাদের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ আনা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহ উদ্ধারের পরপরই এমপি নজরুল ইসলাম ও তার স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে মামলার প্রেক্ষিতে তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ডিসি ইবনে মিজান বলেন,
নিহত মরিয়ম খাতুনের মরদেহ হস্তান্তরের জন্য গাড়ি প্রস্তুত করা হয়েছে। একইসঙ্গে দুই আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। এখন আদালত যে কয় দিনের আবেদন মঞ্জুর করেন।
বর্তমানে আসামিরা আদালতের নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঘটনার নেপথ্যের কারণ উদঘাটনে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মরিয়মের মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উন্মোচনে পুলিশি তদন্ত চলমান রয়েছে।
আরও পড়ুন: কুবি শিক্ষক ইশায়াত হত্যা: এক সপ্তাহের মধ্যে বিচারের আল্টিমেটাম