

করোনাভাইরাস মহামারির সময় হাত ধোয়ার গুরুত্ব নিয়ে দেশব্যাপী ব্যাপক প্রচার ও অবকাঠামো নির্মাণ করা হলেও বর্তমানে সেই অভ্যাস ও ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা অনেকটাই কমে গেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) এমআইসিএস ২০২৫ জরিপ অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৬৮ শতাংশ পরিবারের হাত ধোয়ার স্থানে সাবান ও পানির ব্যবস্থা থাকলেও এখনও ৩২ শতাংশ পরিবার এই মৌলিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। সচেতনতা তৈরি হলেও রক্ষণাবেক্ষণ ও নিয়মিত তদারকির অভাবে তা স্থায়ী অভ্যাসে রূপ নেয়নি।
মহামারির সময় জনসমাগমপূর্ণ স্থান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হাত ধোয়ার বেসিন স্থাপন করা হলেও পরবর্তীতে জনবল সংকট, বাজেট স্বল্পতা এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীনতার কারণে অনেক অবকাঠামো অকার্যকর হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি)-এর গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকার বড় হাসপাতালগুলোর ৩০ শতাংশ বেসিন অকার্যকর এবং প্রায় ৪০ শতাংশ অপরিচ্ছন্ন। এছাড়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফের তথ্যমতে, দেশের ৪৪ শতাংশ বিদ্যালয়ে মৌলিক হাত ধোয়ার সুবিধা ছিল না।
নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত না ধুলে ডায়রিয়া ও অন্যান্য অন্ত্রের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে, যা শিশুদের পুষ্টিহীনতা ও পানিশূন্যতার কারণ হতে পারে।
হাত ধোয়ার স্থানগুলোতে সাবানের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে আইসিডিডিআর,বি একটি সাশ্রয়ী ‘সাবান-পানি’ পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছে। ত্রিশ গ্রাম গুঁড়া ডিটারজেন্টের সঙ্গে দেড় লিটার পানি মিশিয়ে তৈরি এই দ্রবণটি বড় পাত্রে সংরক্ষণ করে সহজে সাবানের প্রাপ্যতা বজায় রাখা সম্ভব। পরীক্ষামূলকভাবে কক্সবাজারে এই পদ্ধতি চালিয়ে সুফল পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, শিশুদের মধ্যে এই অভ্যাস গড়ে তুলতে পাঠ্যপুস্তকে বিষয়টি অন্তর্ভুক্তকরণ এবং বিদ্যালয়গুলোর জন্য নির্দিষ্ট গাইডলাইন তৈরির কাজ চলছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল দিবসভিত্তিক প্রচারণা বা একবার অবকাঠামো তৈরি করলেই চলবে না। হাত ধোয়ার অভ্যাসকে টেকসই করতে হলে বিদ্যালয় ও হাসপাতালে সাবান ও পানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ, নিয়মিত তদারকি এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য পর্যাপ্ত বাজেট নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ ছাড়া জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার এই সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।