

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার জামিজুরী বালিকা উচ্চবিদ্যালয় প্রাঙ্গণে গতকাল বুধবার বিকেলে এক হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। হামের লক্ষণ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইসা তানিয়ার নিথর দেহ বিদ্যালয়ে আনা হলে তার সহপাঠী ও শিক্ষক-শিক্ষিকারা কান্নায় ভেঙে পড়েন। রাইসা দোহাজারী পৌরসভার জামিজুরী ঘোড়াপাড়া এলাকার মোহাম্মদ আলীর মেয়ে এবং তিন ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট ছিল।
বিদ্যালয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২০ দিন আগে রাইসা অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। কিছুদিন পর সে কিছুটা সুস্থও হয়। তবে পরবর্তীতে হামে আক্রান্ত হয়ে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। গত বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মেধাবী ও মিশুক স্বভাবের এই শিক্ষার্থীর আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিষ্ণু যশা চক্রবর্তী জানান, রাইসা একজন অত্যন্ত ভালো ছাত্রী ছিল এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কাছে সে ভীষণ জনপ্রিয় ছিল। তার এই চলে যাওয়া কেউ মেনে নিতে পারছেন না। প্রধান শিক্ষক বলেন, অসুস্থ হওয়ার পর তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম নগরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি।
বুধবার বিকেলে যখন রাইসার মরদেহ বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে বহন করে আনা হয়, তখন সেখানে এক পিনপতন নীরবতা ভেঙে কান্নার রোল পড়ে যায়। সহপাঠীরা তাদের প্রিয় বন্ধুকে শেষবারের মতো দেখতে ভিড় জমায়। শিক্ষকদের চোখ থেকেও গড়িয়ে পড়ে পানি। রাইসার এমন প্রয়াণ পুরো শিক্ষালয়টিকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াশে রোগ হলেও সঠিক সময়ে টিকাদান ও সচেতনতার মাধ্যমে এটি প্রতিরোধ করা সম্ভব। রাইসার মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও যেকোনো শারীরিক জটিলতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার প্রয়োজনীয়তা আরও জোরালোভাবে সামনে এসেছে।