

ঢাকা: সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও দলীয়করণের গুরুতর অভিযোগ তুলে এর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বৃহস্পতিবার রাজধানীর মগবাজারে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে এই দাবি জানানো হয়। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন যে, নির্দিষ্ট কিছু নেতার বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে ডিলার নিয়োগ দেওয়ার প্রমাণ রয়েছে, যার ফলে প্রান্তিক কৃষকরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও জানান যে, সরকারি নীতিমালা ও হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে রাজনৈতিক বিবেচনায় ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় দলীয় প্যাডে সুপারিশকৃত তালিকা এবং আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে ডিলারশিপ দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এর ফলে বাজারে সারসংকট তৈরি হয়েছে এবং সরকার কৃষকদের কাছে সার পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সার ডিলার নিয়োগে ব্যাপক দুর্নীতি ও আর্থিক লেনদেন হয়েছে। সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন করে দলীয় বিবেচনায় লোক নিয়োগ করায় আজ কৃষকরা সারের জন্য হাহাকার করছেন। আমরা এই জালিয়াতির নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার দাবি করছি। - মিয়া গোলাম পরওয়ার, সেক্রেটারি জেনারেল, জামায়াতে ইসলামী
ডিলার নিয়োগের দুর্নীতি ছাড়াও সংবাদ সম্মেলনে ছয় দফা দাবি পেশ করে জামায়াতে ইসলামী। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ডিলার নিয়োগে আর্থিক লেনদেনের নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িতদের শাস্তি প্রদান, নিয়োগের স্বচ্ছ প্রক্রিয়া প্রকাশ, সারসংকটের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের লিখিত ব্যাখ্যা প্রদান। এছাড়া দেশের বর্তমান সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বিরোধী দলকে বাদ দিয়ে কোনো ধরনের সংস্কার গ্রহণযোগ্য নয়। রাজপথে বিতর্ক না বাড়িয়ে সংসদীয় কাঠামোর মাধ্যমে রাজনৈতিক সংকট সমাধানের আহ্বান জানান তিনি।
সার, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি সংকটের কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উৎপাদন খরচ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে উল্লেখ করে জামায়াত নেতা বলেন, এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের ওপর। নগরবাসী ও প্রান্তিক কৃষকদের জীবনযাত্রার মান রক্ষায় এবং তাদের দুর্ভোগ লাঘবে বর্তমান প্রশাসনকে অবিলম্বে কার্যকর অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।