

মোবাইল আর্থিক সেবা (এমএফএস) প্রদানকারী জনপ্রিয় প্রতিষ্ঠান ‘নগদ’ বিক্রির এ মুহূর্তে সরকারের কোনো পরিকল্পনা নেই বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তিনি জানান, বরং এই প্রতিষ্ঠানটিকে আরও আধুনিক, জনবান্ধব ও লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে সুনির্দিষ্ট কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ডাক ভবনে বিশ্ব ডাক দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্তকরণ ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বিশ্ব ডাক দিবস উদ্যাপন উপলক্ষে ৯ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত দেশব্যাপী ‘ডাকসেবা সপ্তাহ’ পালিত হচ্ছে। এ বছরের নির্ধারিত প্রতিপাদ্যের ওপর ভিত্তি করে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ডাক বিভাগকে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য হলো ঐতিহ্যবাহী ডাক ব্যবস্থাকে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আরও যুগোপযোগী করে তোলা, যাতে সাধারণ মানুষ আধুনিক সব ডিজিটাল সুবিধা সহজেই গ্রহণ করতে পারে।
নগদ বিক্রির কোনো পরিকল্পনা এ মুহূর্তে সরকারের নেই। বরং প্রতিষ্ঠানটিকে আরও আধুনিক ও লাভজনক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে ডাকসেবার সার্বিক অগ্রগতি তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষের মাঝে ডাকসেবার প্রতি আস্থা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে পার্সেল সেবায় বর্তমানে ইতিবাচক অগ্রগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই ধারা অব্যাহত রাখতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সব কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে আরও বেশি আন্তরিকতা এবং নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব বিলকিস জাহান রিমি এবং সভাপতিত্ব করেন ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম।
ডাক খাতের আধুনিকায়নে বিদেশি বিনিয়োগের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, ইতোমধ্যে অনেক বিদেশি বিনিয়োগকারী ডাক বিভাগে বিনিয়োগ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। সরকারের নানামুখী পদক্ষেপে ভবিষ্যতে ডাক বিভাগের সেবার মান, সরকারের সামগ্রিক আয় এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন। দেশব্যাপী চিঠি উৎসব, ফিলাটেলিক প্রদর্শনী এবং প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে এবারের ডাকসেবা সপ্তাহ।
বর্তমান সরকারের এসব সময়োপযোগী পদক্ষেপে দেশের সামগ্রিক আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং ডিজিটাল অর্থনীতির ভিত্তি আরও বেশি শক্তিশালী হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। নগদ ও ডাক বিভাগের আধুনিকায়নের এই কার্যক্রম দেশের সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় আধুনিক সেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।