

রাষ্ট্রপতি কর্তৃক জারিকৃত এক নতুন অধ্যাদেশের মাধ্যমে মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর ৬৪ নম্বর ধারা প্রতিস্থাপন করে ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে। গত ১৩ অক্টোবর এই অধ্যাদেশ জারি করা হলেও তা চলতি বছরের ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হয়েছে বলে গণ্য করা হবে। সংসদ অধিবেশন না থাকায় সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে এই জরুরি বিধান আনা হয়েছে।
নতুন এই সংশোধিত নিয়মের ফলে করদাতাদের দুটি প্রধান ভাগে ভাগ করে রিটার্ন জমা দেওয়ার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। সাধারণ নিবন্ধিত, তালিকাভুক্ত বা নিবন্ধনযোগ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য কর মেয়াদ শেষ হওয়ার পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে এবং সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, ব্যাংক, বিমা ও শূন্য রিটার্ন প্রদানকারীদের জন্য এই সময়সীমা ২০ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দাখিলের শেষ দিনে কোনো সরকারি ছুটি থাকলে পরবর্তী প্রথম কার্যদিবসেই রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে। এছাড়া বিশেষ পরিস্থিতিতে এনবিআর সুদ ও জরিমানা ছাড়া সময় বৃদ্ধি এবং ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা আরোপের ক্ষমতা সংরক্ষণ করে।
অধ্যাদেশের বিধান অনুযায়ী করদাতাদের নির্দিষ্ট শ্রেণবিন্যাসের মাধ্যমে কর ব্যবস্থাপনা আরও স্বচ্ছ করা হয়েছে। সাধারণ ব্যবসায়ী ও বিশেষ সংস্থার জন্য আলাদা সময়সীমা থাকায় করদাতারা তাদের কার্যক্রম আরও সুচারুভাবে পরিচালনা করতে পারবেন। বিশেষ করে ইলেকট্রনিক বা ই-রিটার্ন ব্যবস্থার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে, যা কর ফাঁকি রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিশ্লেষকদের মতে, সময়সীমা সুনির্দিষ্ট হওয়ার ফলে করদাতাদের দীর্ঘদিনের বিভ্রান্তি দূর হবে এবং রাজস্ব আহরণ প্রক্রিয়া আরও গতিশীল হবে। এনবিআরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নতুন এই অধ্যাদেশের বাস্তবায়নে সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে এবং করদাতাদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিলের আহ্বান জানানো হয়েছে।