

বাংলাদেশের কৃষি খাত বর্তমানে লাভজনক না থাকায় শ্রমিকরা এ পেশা ছেড়ে যাচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি। আজ সকালে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) পরিদর্শনকালে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি দেশের কৃষিকে একটি লাভজনক খাতে পরিণত করার ওপর জোর দেন। পর্যাপ্ত আয় না থাকায় মাঠে কাজ করার জন্য পর্যাপ্ত কৃষক পাওয়া যাচ্ছে না বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে কৃষিপণ্য সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের অভাব এবং এর ফলে কৃষকদের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি। উত্তরাঞ্চলে প্রচুর আলু উৎপাদিত হলেও ন্যায্যমূল্য না পেয়ে কৃষকদের আলু রাস্তায় ফেলে দেওয়ার মতো ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, উৎপাদনস্থল থেকে রাজধানীতে আসার পর এবং মৌসুমের ব্যবধানে পণ্যের দামে বড় ফারুখ তৈরি হয়। শুধু আলু নয়, টমেটোসহ অন্যান্য সবজি ও ফলমূল দীর্ঘসময় সংরক্ষণের জন্য কোল্ড স্টোরেজ ও আধুনিক প্রযুক্তির সম্প্রসারণ জরুরি।
কৃষিপণ্যের উৎপাদন বাড়লেও যথাযথ সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের অভাবে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে কৃষিপণ্য সংরক্ষণ প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন।
কৃষিজমিতে অতিমাত্রায় রাসায়নিক সার ব্যবহারের ফলে মাটির ক্ষতি এবং ফসলের গুণগত মান নষ্ট হওয়ার বিষয়েও সতর্ক করেছেন রাষ্ট্রপতি। কৃষকদের সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি টেকসই কৃষিপ্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, পেঁয়াজ উৎপাদনে গবেষকদের সাফল্য ইতিবাচক হলেও ফল ও অন্যান্য ফসলের ক্ষেত্রেও এই ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। পাশাপাশি, কৃষি বিজ্ঞানীদের পেনশন-সংক্রান্ত বিধিমালা পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় কৃষি গবেষকদের যথাযথ সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কৃষি উন্নয়নমূলক অবদানের কথা স্মরণ করেন রাষ্ট্রপতি। অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা ও গবেষকদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানানো হয়।