

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ হিসেবে ৫ হাজার টাকা ধার ফেরত চাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পুলিশ। শুক্রবার নিখোঁজের পর শনিবার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে লালমাই পাহাড়ের জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সাইফুল ইসলাম তুহিনসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অপ্রতিমের বাবার প্রতিষ্ঠানে কর্মরত তুহিন নেশার টাকা জোগাড় করতে অপ্রতিমের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা ধার নিয়েছিলেন। শুক্রবার জুমার নামাজের পর টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে অপ্রতিমকে লালমাই পাহাড়ের দিকে নিয়ে যান তুহিন। সেখানে টাকা নিয়ে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে তুহিন ও তার সহযোগীরা অপ্রতিমকে লাঠিপেটা করে হত্যা করে। হত্যাকাণ্ডের পর অপ্রতিমের আইফোনটি ছিনিয়ে নিয়ে তারা পালিয়ে যায়, যা মূলত ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার কৌশল ছিল।
অপ্রতিমের মা ড. নাহিদা বেগম অতীতে মাদকবিরোধী অভিযানে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের পুলিশের হাতে সোপর্দ করেছিলেন। এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে সেই প্রতিশোধের কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, তুহিন 'কিং অব কোটবাড়ি' নামক একটি স্থানীয় কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্ব দিতেন। অপ্রতিম দীর্ঘ এক বছর ধরে এই গ্যাংয়ের সদস্যদের সঙ্গে মেলামেশা করত এবং নিয়মিত তাদের আড্ডায় অংশ নিত। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে তুহিন হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করলেও অন্যদের নাম প্রকাশে শুরুতে অনীহা প্রকাশ করেন। তবে প্রযুক্তিগত নজরদারি ও মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড বিশ্লেষণ করে পুলিশ গ্যাংয়ের অন্য সদস্যদের শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের সময়ও তুহিন ও তার সহযোগীরা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিখোঁজ নাটক সাজিয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
বর্তমানে গ্রেপ্তারকৃতদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। অপ্রতিমের মা ড. নাহিদা বেগম দাবি জানিয়েছেন, তার ছেলের হত্যাকাণ্ডের পেছনে কেবল আর্থিক বিরোধ নয়, বরং পূর্বের মাদকবিরোধী অভিযানের কোনো ক্ষোভ কাজ করেছে কি না তা যেন নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং দ্রুতই চার্জশিট প্রদান করা হবে।