

ইসলামে পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব অপরিসীম হলেও দৈনন্দিন জীবনের কিছু সাধারণ কাজ নিয়ে সমাজে নানা ধরনের সংশয় প্রচলিত রয়েছে। এর মধ্যে একটি বহুল আলোচিত প্রশ্ন হলো, অজু করার পর নখ কাটলে বা চুল ছাঁটলে কি অজু ভেঙে যায় কি না। ইসলামী শরিয়তের পরিভাষায় এই ধারণার কোনো ভিত্তি নেই এবং অজু করার পর নখ কাটলে নতুন করে অজু করার কোনো প্রয়োজন হয় না।
দৈনন্দিন জীবনে শরীর পরিচ্ছন্ন রাখা, নখ কাটা কিংবা চুল ছাঁটার সঙ্গে পবিত্রতা অর্জনের প্রক্রিয়া বা অজু ভঙ্গের কোনো সম্পর্ক নেই। ইসলামি আইনবিদ ও ফুক্বাহায়ে কেরামের মতে, শরিয়তে অজু ভঙ্গের নির্দিষ্ট কিছু কারণ সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব কারণের বাইরে সাধারণ পরিচ্ছন্নতামূলক কাজগুলোর কারণে অজুর পবিত্রতা নষ্ট হয় না।
নখ কাটা বা চুল ছাঁটার মধ্যে অজু ভাঙার কোনো কারণ নেই। অজুর ভেতরে যেসব বিষয়কে অজু নষ্টের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, নখ কাটা তার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত নয়। - মুফতি ইয়াহইয়া শহিদ, ইসলামিক চিন্তাবিদ
ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী অজু ভঙ্গের কারণগুলো অত্যন্ত স্পষ্ট। প্রাকৃতিক পথ দিয়ে মলমূত্র বা বায়ু নির্গত হওয়া, শরীর থেকে রক্ত বা পুঁজ গড়িয়ে পড়া, গভীর ঘুম বা সংজ্ঞা হারানো, যৌনাঙ্গ স্পর্শ করা, মুখ ভরে বমি হওয়া এবং নামাজে জোড়ে হাসলে অজু ভেঙে যায়। এগুলোর বাইরে নখ কাটা কিংবা চুল কাটার কারণে অজুর ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়ে না। প্রাচীনকাল থেকেই মুফতি ও আলেমগণ এই বিষয়ে একই মত পোষণ করে আসছেন যে এ ধরনের কাজে অজু নষ্ট হয় না।
ইসলাম আমাদের জীবনকে সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করে দিয়েছে, তাই ধর্মীয় বিধিবিধান পালনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অপ্রয়োজনীয় সংশয় বা কুসংস্কারে বিশ্বাস করার অবকাশ নেই। পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ এবং নখ কাটা একটি নিয়মিত সুন্নতি আমল, যা যেকোনো সময় করা সম্ভব। সঠিক জ্ঞান ও ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার মাধ্যমে এ ধরনের ভুল ধারণা থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব।