

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার সরাসরি প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বাংলাদেশেও জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের মূল্যের ঊর্ধ্বগতির ফলে আমদানিনির্ভর এই জ্বালানি পণ্যের দাম বাড়ানো ছাড়া সরকারের সামনে বিকল্প কোনো পথ খোলা ছিল না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে চলমান সংঘাতের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ চেইন ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের ব্যারেল প্রতি দাম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পায়। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) আন্তর্জাতিক বাজারের এই অস্থিরতার সাথে সামঞ্জস্য রেখে দেশের বাজারে নতুন দাম নির্ধারণ করেছে, যা আজ থেকে কার্যকর হয়েছে।
জ্বালানি খাতের নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে দেশের বাজারেও তার প্রভাব পড়ে। এ বিষয়ে সরকারি এক মুখপাত্র বলেন,
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়লে আমাদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হয়। দেশের অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে এই সমন্বয় করা হয়েছে।
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে পরিবহন খরচ এবং নিত্যপণ্যের বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা। বিশেষ করে কৃষি উৎপাদন ও শিল্প কারখানায় জ্বালানি তেলের ব্যবহার বেশি হওয়ায় উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জ্বালানি তেলের দাম প্রতি লিটারে নির্দিষ্ট হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় পণ্য পরিবহনের ব্যয় ৫ থেকে ৭ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।
আরও পড়ুন: দেশের বাজারে ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম: নতুন দর কত?
বর্তমানে সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। বিশ্ববাজারে তেলের দাম স্থিতিশীল হলে বা কমলে পরবর্তীতে দেশের বাজারেও তা পুনরায় সমন্বয় করা হবে বলে আশ্বস্ত করেছে জ্বালানি বিভাগ। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখার চ্যালেঞ্জ এখন সরকারের বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।