

কাজের সন্ধানে কম্বোডিয়ায় গিয়ে সাইবার স্ক্যাম চক্রের খপ্পরে পড়ে বন্দি হওয়া ৩০ বাংলাদেশি নাগরিক মুক্তি পেয়ে মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন। মঙ্গলবার দুপুর ১২টা ১০ মিনিটের দিকে তাদের বহনকারী বিমানটির অবতরণ করার কথা রয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী চক্রের প্রলোভনে পড়ে তারা কম্বোডিয়ায় গিয়েছিলেন এবং সেখানে নানা নিপীড়নের শিকার হন।
কম্বোডিয়া সরকার পরবর্তীতে তাদের উদ্ধার করলেও গত ৩ সেপ্টেম্বর নমপেন বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর স্থানীয় ইমিগ্রেশন পুলিশ তাদের আটক করে বন্দিশালায় পাঠিয়ে দেয়। এই খবর পাওয়ার পর অভিবাসন বিষয়ক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন 'অনির্বাণ সারভাইভার ভয়েস ফাউন্ডেশন' বাংলাদেশ সরকারের কাছে তাদের দ্রুত মুক্তির জোরালো দাবি জানায়। সংগঠনের পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতির ভিত্তিতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিক কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে থাইল্যান্ডে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে পাঠানো বিশেষ নির্দেশনার পর কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়। দূতাবাসের কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ সহায়তায় কম্বোডিয়া কর্তৃপক্ষ আটক বাংলাদেশিদের বন্দিশালা থেকে মুক্তি দেয়। কূটনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রচেষ্টার ফলেই এই বন্দি নাগরিকদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে সাম্প্রতিক সময়ে কাজের প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশি নাগরিকদের পাচার করার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। কম্বোডিয়া ও মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী দুর্গম এলাকায় গড়ে ওঠা বিভিন্ন স্ক্যাম সেন্টারে আটকে রেখে বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের জোরপূর্বক অনলাইন প্রতারণামূলক কাজে বাধ্য করা হয়। এই চক্রগুলোর খপ্পরে পড়ে অসংখ্য তরুণ সর্বস্বান্ত হচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, বিদেশে যাওয়ার আগে রিক্রুটিং এজেন্সির বৈধতা যাচাই এবং সরকারের জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) ছাড়পত্র নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
বর্তমানে মুক্তিপ্রাপ্ত এই ৩০ বাংলাদেশির নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার পর তাদের পুনর্বাসন এবং পাচারকারী চক্রের মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অবৈধ অভিবাসন রোধে কঠোর নজরদারি বজায় রাখার কথা জানানো হয়েছে। বিমানবন্দর থেকে তাদের গ্রহণ করার জন্য প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি দল ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।