

টানা চার দিন দরপতনের পর মঙ্গলবার বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে আজ সকালে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০২ ডলার ছাড়িয়ে যায়, যা পরবর্তীতে কিছুটা কমে ১০১ ডলার ৮০ সেন্টে নেমে আসে। একই সঙ্গে ডব্লিউটিআই ক্রুডের দামেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।
বিশ্ববাজারে এই অস্থিরতার পেছনে প্রধানত মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি কাজ করছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। এর আগে গত সপ্তাহের শেষে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছিল, যার ফলে তেলের দাম টানা কয়েক দিন নিম্নমুখী ছিল।
বাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন,
সাম্প্রতিক দরপতনের পর বিনিয়োগকারীরা তাদের অবস্থান সমন্বয় করছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনার পরিষ্কার অগ্রগতি না হওয়া পর্যন্ত তেলের দাম নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে ওঠানামা করতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রভাব সরাসরি তেলের বাজারে পড়ছে। ইরান-সমর্থিত হুতিদের সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় সৌদি আরামকোর স্থাপনায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর পাশাপাশি লিবিয়ার শরারা তেলক্ষেত্রে সশস্ত্র গোষ্ঠীর বাধার কারণে উৎপাদন দিনে প্রায় দুই লাখ ব্যারেল হ্রাস পেয়েছে। যদিও সৌদি আরব হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল রপ্তানি বাড়িয়ে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছে, তবুও বাজারের অস্থিরতা সূচক এখনো ঐতিহাসিক গড়ের তুলনায় বেশি রয়েছে।
আরও পড়ুন: ইয়েমেনে ২৪ ঘণ্টায় ২৮টি বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব: দাবি হুথিদের
বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের এই ওঠানামা বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও পরোক্ষ প্রভাব ফেলে। বাংলাদেশ বছরে প্রায় ৭০ লাখ টন তেল আমদানি করে, যার একটি বড় অংশ পরিশোধিত অবস্থায় আসে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়লে পরিবহন ও পরিশোধন ব্যয়সহ সামগ্রিক আমদানি খরচ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়, যা শেষ পর্যন্ত স্থানীয় বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।