

কক্সবাজার: কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ইনানীর পাটুয়ারটেক এলাকায় মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০ জনের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নমুনা ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। মরদেহগুলো আগুনে মারাত্মকভাবে পুড়ে যাওয়ায় চেহারা দেখে শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে প্রিয়জনের মরদেহ বুঝে পেতে পরীক্ষার ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে স্বজনদের। গত ১৭ অক্টোবর সকালে এই মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর গত রোববার কক্সবাজার সদর হাসপাতালের হিমঘরে রাখা ১০টি মরদেহ থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে সন্ধ্যায় সেই নমুনাগুলো পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। শুধুমাত্র মরদেহ থেকে সংগ্রহ করা নমুনা পরীক্ষা করে পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বিধায় নিহতদের বাবা, মা, ভাই, বোন বা সন্তানের মতো নিকটাত্মীয়দের নমুনার সঙ্গে তা মিলিয়ে দেখা হবে। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পরই মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) সুবক্তগীন মাহমুদ সোহেল জানান, নিহতদের পরিচয় শনাক্তের পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে তিন থেকে চার সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। উখিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রিমন ঘোষ বলেন, পরীক্ষার জন্য নমুনাগুলো ঢাকার মালিবাগে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার ফল পাওয়ার পর নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হবে এবং দ্রুত প্রক্রিয়াটি শেষ করতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মধ্যে ঢাকার বাসিন্দা রিয়াজ মাহমুদ রিপনের পরিবারের ছয় সদস্য রয়েছেন। রিপন জানান, তার পরিবারের চার সদস্য ইতোমধ্যে ঢাকার মালিবাগে সিআইডি কার্যালয়ে নমুনা দিয়েছেন। দ্রুত ডিএনএ পরীক্ষা শেষ করে মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তরের দাবি জানান তিনি। এছাড়া স্ত্রী নাসরিন আক্তার মুক্তার মরদেহের অপেক্ষায় দুই দিন ধরে কক্সবাজারে রয়েছেন তার স্বামী ফয়সাল দেওয়ান। তিনি বলেন, হাসপাতাল থেকে পরিচয় শনাক্তে প্রায় এক মাস লাগতে পারে বলে জানানো হয়েছে, তবে প্রশাসনের উচিত প্রক্রিয়াটি দ্রুত সম্পন্ন করা।
আমি জানি, আমার স্ত্রী নাসরিন আক্তার মুক্তাকে আর ফিরে পাব না। কিন্তু আমি চাই না, আর কোনো স্বামীকে এভাবে তার স্ত্রী হারাতে হোক, আর কোনো পরিবারকে প্রিয়জনের মরদেহ খুঁজতে হাসপাতালে ছুটতে হোক, বলছিলেন শোকার্ত ফয়সাল দেওয়ান।
এদিকে এই মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি কাজ শুরু করেছে এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে দীর্ঘ এক মাস অপেক্ষার প্রহর গুণতে হওয়ায় স্বজনদের মধ্যে চরম মানসিক যন্ত্রণা ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। প্রশাসন ও সিআইডির পক্ষ থেকে প্রক্রিয়াটি দ্রুত সম্পন্ন করার বিষয়ে সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।