

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে বাড়ছে অতিবৃষ্টি ও দীর্ঘ খরার মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয়। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রকৃতিনির্ভর নগর পরিকল্পনার দিকে ঝুঁকছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। শহরগুলোতে বৃষ্টির পানি ধরে রাখা, সংরক্ষণ ও পুনর্ব্যবহার নিশ্চিত করতে সম্প্রতি চালু করা হয়েছে স্পঞ্জ ফ্যাসিলিটি নামক বিশেষ উদ্যোগ।
স্পঞ্জ সিটি বা স্পঞ্জ শহর এমন একটি আধুনিক নগর পরিকল্পনা, যেখানে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন না করে মাটি, জলাভূমি ও সবুজ স্থানের মাধ্যমে শোষণ করা হয়। ২০০০-এর দশকের শুরুতে চীনা ভূদৃশ্য স্থপতি কংজিয়ান ইউ এ ধারণা প্রথম তুলে ধরেন। পরবর্তীতে বেইজিংয়ের ভয়াবহ বন্যার পর চীন এ পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন শুরু করে। বর্তমানে ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও এই মডেল সফলভাবে পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে।
স্পঞ্জ সিটি বা স্পঞ্জ শহর এমন একটি নগর পরিকল্পনা, যেখানে বৃষ্টির পানি দ্রুত নালা দিয়ে বের করে না দিয়ে মাটি, জলাভূমি ও সবুজ স্থানের মাধ্যমে শোষণ ও সংরক্ষণ করা হয়।
সুইডেনের মালমো শহরের আগস্টেনবর্গ এলাকায় সবুজ ছাদ ও জলাভূমি তৈরির মাধ্যমে বন্যার ক্ষয়ক্ষতি সফলভাবে কমানো হয়েছে। এছাড়া নেদারল্যান্ডসের রটারডামে বিনথেমপ্লেইন এবং ডেনমার্কের কোপেনহেগেনেও খোলা স্থান ও ভূগর্ভস্থ জলাধারের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এসব উদ্যোগের ফলে একদিকে যেমন জলাবদ্ধতা কমছে, অন্যদিকে খরার সময় পানির সংকট মোকাবিলা করা সহজ হচ্ছে।
ইউরোপীয় কমিশনের ২০২৫ সালের পানি সহনশীলতা কৌশলে স্পঞ্জ সিটি সম্প্রসারণ এবং প্রাকৃতিক জলাভূমি পুনরুদ্ধারের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। তবে ঐতিহাসিক ও ঘনবসতিপূর্ণ শহরগুলোতে পাকা অংশ অপসারণ এবং সবুজ ছাদ নির্মাণের মতো চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, স্পঞ্জ সিটি এককভাবে সব সমস্যার সমাধান না করলেও প্রথাগত নিষ্কাশনব্যবস্থার সঙ্গে এটি জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধিতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে শহরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ও ভূগর্ভস্থ পানির স্তর সমৃদ্ধ করতে এই প্রকৃতিনির্ভর ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো তাদের ভবিষ্যৎ নগর পরিকল্পনাগুলোতে এই মডেলকে স্থায়ীভাবে যুক্ত করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।