

জ্বালানি তেলের দাম ২০ টাকা বৃদ্ধি করার পরও সরকার প্রতি লিটার ডিজেলে প্রায় ৯০ টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি বিষয়ক এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিতিশীলতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক সংকটের কারণে জ্বালানি তেলের বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে উপদেষ্টা বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম সামান্য কমলেও তা দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্ব পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। তিনি জানান, জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক বাজার অত্যন্ত অস্থির এবং ১০০ ডলারের বেশি মূল্যের ক্রুড অয়েল পরিস্থিতির উন্নতির পথে বড় বাধা। এই পরিস্থিতিতে সরকার জনগণের কাছে কিছুটা ধৈর্য ও সহমর্মিতা প্রত্যাশা করছে।
জ্বালানি তেলের দাম ২০ টাকা বাড়ানোর পরও এখনো বড় ধরনের ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। প্রতি লিটার ডিজেলে প্রায় ৯০ টাকা ভর্তুকি প্রদান অব্যাহত রয়েছে। বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি সামনে খুব একটা ভালো নয়, তাই আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে সরাসরি প্রভাবিত করছে। স্ট্রেইট অব হরমুজ এবং বাব আল-মানদেব প্রণালীতে সৃষ্ট অস্থিরতার কারণে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া হুতি বিদ্রোহীদের সাথে সৌদি আরবের চলমান উত্তেজনার ফলে পাইপলাইন নিরাপত্তা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতা সরাসরি বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানিতে প্রভাব ফেলছে।
আরও পড়ুন: ইয়েমেনে ২৪ ঘণ্টায় ২৮টি বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব: দাবি হুথিদের
রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ককটেল বিস্ফোরণ বা বাসে আগুন দিয়ে সরকারের মধ্যে সংকট তৈরি করা সম্ভব নয়। গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার তার মেয়াদ পূর্ণ করবে এবং রাজনৈতিক দলগুলোকে এই বাস্তবতা মেনে নিয়েই কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।