

ঢাকা: জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে দেশের দূরপাল্লা ও নগর পরিবহনের বাসভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ১৭ পয়সা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, যা খুব শীঘ্রই প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করা হবে। নতুন এই ভাড়ার হার কার্যকর হলে সাধারণ যাত্রীদের যাতায়াত ব্যয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পাবে।
এর আগে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ বা বিআরটিএর পক্ষ থেকে দূরপাল্লার বাসের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ২০ পয়সা এবং নগর পরিবহনে ১৮ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে মন্ত্রণালয় সব পক্ষের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে উভয় ক্ষেত্রেই কিলোমিটারপ্রতি অভিন্ন ১৭ পয়সা বৃদ্ধির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এর ফলে দেশের যাতায়াত ব্যবস্থায় নতুন অর্থনৈতিক চাপের সৃষ্টি হতে যাচ্ছে।
পরিবহন খাতের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সর্বশেষ গত এপ্রিলে ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১৫ টাকা বাড়ানোর পর বাসভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ১১ পয়সা বাড়ানো হয়েছিল। ওই সময়ে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে বাসের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ২ টাকা ৫৩ পয়সা এবং মিনিবাসের ভাড়া ২ টাকা ৪২ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছিল। অন্যদিকে দূরপাল্লার পথে ৫২ আসনের বাসে কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া ছিল ২ টাকা ২৩ পয়সা।
সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে পরিবহন পরিচালনা ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় মালিক পক্ষ থেকে ভাড়া বাড়ানোর জোরালো দাবি উঠেছিল। বিআরটিএর প্রাথমিক মূল্যায়নের পর মন্ত্রণালয় এই সমন্বয় করেছে। তবে অনেক নন-এসি দূরপাল্লার বাসে আসনসংখ্যা কমিয়ে ৪০ বা তারও কম করা হয়েছে, যেখানে যাত্রীদের আসনপ্রতি তুলনামূলক বেশি ভাড়া গুনতে হয়। এর সঙ্গে বিভিন্ন সেতু ও মহাসড়কের টোল যুক্ত হওয়ায় যাত্রীদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছে।
পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা সরকারের এই সিদ্ধান্তকে আংশিক ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও সাধারণ যাত্রীরা মনে করছেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্যের বাজারে এই অতিরিক্ত ভাড়া যাত্রীদের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়িয়ে তুলবে। সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের আর্থিক স্বস্তি দিতে এবং ভাড়া নিয়ন্ত্রণে কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করবে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।