

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির জেরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য এবং অভ্যন্তরীণ নথির বরাতে জানা যায়, আদালতের আর্থিক লেনদেন পঙ্গু করে দিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
এর আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ইসরায়েলি শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলে ওয়াশিংটন তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়। মূলত ওই ঘটনার পর থেকেই ওয়াশিংটন আন্তর্জাতিক এই বিচারিক প্রতিষ্ঠানটিকে অকার্যকর করার পথ খুঁজছিল, যা এখন চূড়ান্ত রূপ পাচ্ছে।
মার্কিন প্রশাসনের নতুন এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট একটি গ্রেস Period বা সময়সীমার পর আইসিসির সঙ্গে সব ধরনের লেনদেন নিষিদ্ধ করা হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ছয় থেকে সাত মাস পর এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হতে পারে।
প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে একরকম বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত। মার্কিন ডলারে লেনদেন করার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির ফলে আদালতের দৈনন্দিন কার্যক্রম এবং বিচারিক প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ বিশ্বজুড়ে বিচারহীনতার সংস্কৃতি রোধে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর বড় ধরনের আঘাত।
বিশ্ব রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক আইনের বরপুত্র হিসেবে পরিচিত এই আদালতকে দুর্বল করতে ট্রাম্প প্রশাসনের এই উদ্যোগ বিশ্বজুড়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো মার্কিন এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ বলে অভিহিত করেছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত এবং এর মিত্র দেশগুলো এই সংকট মোকাবিলায় কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার চূড়ান্ত বাস্তবায়ন রোধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।