

সানয়া: ইয়েমেনের শাবওয়া প্রদেশে নিরাপত্তা কর্মীদের একটি প্রশিক্ষণ শিবিরে হুতি বিদ্রোহীদের চালানো আকস্মিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছেন। সোমবার ঘটা এই ভয়াবহ হামলায় দুইশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে। ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার এই ঘটনাকে একটি ‘সন্ত্রাসী’ হামলা হিসেবে আখ্যায়িত করে জানিয়েছে যে, এই শিবিরের সঙ্গে কোনো প্রত্যক্ষ যুদ্ধক্ষেত্রের সংযোগ ছিল না।
ইয়েমেন সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রশিক্ষণ শিবিরটিতে তিনটি সুনির্দিষ্ট ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। হামলার পরপরই সেখানে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয় এবং উদ্ধারকর্মীরা আহতদের দ্রুত স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যান। দেশটির নীতিনির্ধারক মহলে এই হামলার পর থেকেই কঠোর নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
ইয়েমেন সরকার জানিয়েছে, কোনো যুদ্ধক্ষেত্রের সঙ্গে সংযোগহীন একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে এই ধরনের হামলা চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং এটি সম্পূর্ণ সন্ত্রাসী কার্যক্রমের আওতাভুক্ত।
অন্যদিকে হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করে ভিন্ন দাবি করেছে। তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর সামরিক সমাবেশ লক্ষ্য করেই এই হামলা চালানো হয়েছে এবং নিহতদের মধ্যে কিছু সৌদি কর্মকর্তাও রয়েছেন। হুতি সামরিক মুখপাত্র হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, তাদের অবস্থান থেকে তারা পিছপা হবেন না এবং সৌদি আরবের ভেতরে আরও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রাখা হবে।
এই সহিংসতার জেরে মধ্যপ্রাচ্যের এই অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। সৌদি আরবও এর জবাবে তাদের বিমান হামলা জোরদার করেছে। উভয় পক্ষের এমন অনমনীয় অবস্থান এবং লাগাতার হামলার কারণে ইয়েমেন জুড়ে নতুন করে সর্বাত্মক গৃহযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও বেশি বিপন্ন করে তুলছে।