

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। আজ মঙ্গলবার স্পিকারের কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করার পাশাপাশি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বেইজিংয়ের জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান স্পিকার।
বৈঠকের শুরুতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, চীন বাংলাদেশের পরীক্ষিত ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু। দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন থেকে শুরু করে বিভিন্ন খাতে চীন সবসময় পাশে থেকেছে। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আমলে দুই দেশের সম্পর্ক দৃঢ় ভিত্ত ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। এ সময় তিনি বিগত সরকারের আমলের বিভিন্ন অনিয়ম ও স্বৈরাচারী আচরণের কথা উল্লেখ করে জানান যে সাম্প্রতিক নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে পুনরায় গণতান্ত্রিক ধারা ফিরে এসেছে।
প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসন নিয়ে বাংলাদেশকে প্রতিনিয়ত নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এই সংকট সমাধানে চীন সরকারের কার্যকর কূটনৈতিক ও মানবিক সহায়তা একান্ত প্রয়োজন। - স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ
চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন জানান যে বর্তমান সরকার জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করছে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। চীন বাংলাদেশের উন্নয়নের অন্যতম বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার উল্লেখ করে তিনি বলেন, মেগা প্রকল্পের পাশাপাশি মাঝারি ও ছোট বিনিয়োগেও চীন আগ্রহী। বাংলাদেশকে পণ্য উৎপাদনভিত্তিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে আইসিটিসহ বিভিন্ন লজিস্টিক খাতে বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে বেইজিংয়ের।
আরও পড়ুন: এয়ারবাস কেনা ইউরোপের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ: ফরাসি রাষ্ট্রদূত
বৈঠকে বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও চীন করিডোর স্থাপন, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং উপকূলীয় অঞ্চলে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানে চীনা কোম্পানিগুলোকে বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানান স্পিকার। এছাড়া, এক চীন নীতির প্রতি বাংলাদেশের দৃঢ় সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। বৈঠক শেষে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।