

যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ কমালে এবং তেহরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ তুলে নিলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে প্রস্তুত রয়েছে ইরান। দেশটির এমন ইতিবাচক ইঙ্গিতের পর আন্তর্জাতিক বাজারে বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত কমতে শুরু করেছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ব্যারনস এর প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রে থাকা হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে যাওয়ার এই সম্ভাবনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের স্বস্তি নিয়ে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই উত্তেজনার কারণে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত হওয়ার যে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল, ইরানের এই ঘোষণায় তা অনেকটাই দূর হয়েছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম কমার ধারা তৈরি হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইতোমধ্যে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ২ দশমিক ৫ শতাংশের বেশি কমে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৮৯ ডলারে নেমে এসেছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৯৮ ডলারের নিচে নেমে এসেছে, যা গত কয়েক সপ্তাহের তুলনায় বেশ বড় পতন।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে যাওয়ার সম্ভাবনা মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘমেয়াদী উত্তেজনা কিছুটা কমাতে পারে। জ্বালানির এই দরপতন বিশ্ব অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতি নিয়ে যে উদ্বেগ রয়েছে, তা প্রশমিত করতে সহায়তা করবে। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদের হার আরও বাড়ানোর প্রয়োজন সীমিত করতে পারে এই পরিস্থিতি।
ইরানের এই কূটনৈতিক ও কৌশলগত পদক্ষেপ বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এবং অর্থনৈতিক চাপ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক অর্থনীতিবিদরা।
বর্তমান পরিস্থিতিতে তেলের দামের এই পতন অব্যাহত থাকলে তা আমদানি নির্ভর দেশগুলোর জন্য স্বস্তির বার্তা নিয়ে আসবে। সংশ্লিষ্টরা এখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের পরবর্তী কূটনৈতিক যোগাযোগের দিকে নজর রাখছেন, যা এই অঞ্চলের সার্বিক পরিস্থিতি নির্ধারণ করবে।