

আগামী ২ নভেম্বরের মধ্যে ফিফার কাছে ৪২টি সুনির্দিষ্ট প্রশ্নের লিখিত জবাব ও সহায়ক নথিপত্র জমা দেওয়ার আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানিয়েছে ইউরোপীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বা উয়েফা। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিভিন্ন বিতর্কিত পরিকল্পনা, টুর্নামেন্টের নানা সিদ্ধান্ত এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে শান্তি পুরস্কার দেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে এই প্রশ্নগুলো উত্থাপন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফিফা ও উয়েফার মধ্যকার সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ফিফার বিভিন্ন কার্যপদ্ধতি নিয়ে ইউরোপের ফুটবল সংস্থাগুলোর মধ্যে অসন্তোষ বেড়েই চলেছে। এরই ধারাবাহিকতায় উয়েফার পক্ষ থেকে এই বিশাল সংখ্যক প্রশ্নমালা পাঠানো হয়েছে। বিশেষ করে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থার আর্থিক পরিকল্পনা এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলোর স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব প্রশ্নের সন্তোষজনক জবাব না মিললে ফুটবলের আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
উয়েফার পাঠানো প্রশ্নমালার অন্যতম প্রধান বিষয় হলো ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ব্যর্থ পরিকল্পনা। টিকিটের আংশিক বিক্রি করে ২০ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহের যে উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল, তার কার্যকারিতা ও ব্যর্থতার কারণ সম্পর্কে জানতে চেয়েছে ইউরোপীয় সংস্থাটি। পাশাপাশি গত বিশ্বকাপ চলাকালীন যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলার ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ড বাতিলের পুরো প্রক্রিয়া নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। কোন যুক্তিতে এবং কী প্রক্রিয়ায় ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তার ব্যাখ্যা চেয়েছে উয়েফা।
আলোচিত প্রশ্নগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো সদ্য চালু হওয়া ফিফা শান্তি পুরস্কার মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দেওয়ার বিষয়টি। কোন মাপকাঠিতে এবং কী উদ্দেশ্যে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। উয়েফার দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, ফিফার প্রতিটি সিদ্ধান্তের পেছনে সুনির্দিষ্ট ও প্রামাণ্য যুক্তি রয়েছে কি না, তা যাচাই করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফুটবল কূটনীতিতে এই প্রশ্নমালা এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
সংস্থাটির পক্ষ থেকে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, আগামী ২ নভেম্বরের মধ্যে ফিফাকে প্রতিটি প্রশ্নের আলাদা ও লিখিত জবাব দিতে হবে। সেই সঙ্গে উত্তরের সমর্থনে প্রয়োজনীয় সকল দাপ্তরিক নথিপত্রও জমা দিতে হবে। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা এই দাবির মুখে কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানায় এবং জিয়ান্নি ইনফান্তিনো প্রশাসন কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, এই জবাবদিহিতার প্রক্রিয়া ফিফার অভ্যন্তরীণ শাসন ব্যবস্থাকে বড় ধরনের পরীক্ষার মুখে ফেলবে।