

বেনাপোল: বেনাপোল স্থলবন্দরে মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি করা ফ্লেভারের চালানের আড়ালে বিপুল পরিমাণ ঘোষণাবহির্ভূত পণ্য খালাসের চেষ্টা ভণ্ডুল করে দিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। এতে প্রায় ৫৫ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকির চাঞ্চল্যকর তথ্য উদ্ঘাটিত হয়েছে। রবিবার (১৮ অক্টোবর) রাতে বন্দরের ১৪ নম্বর শেডের সামনে থেকে একটি কাভার্ড ভ্যানসহ এসব অবৈধ পণ্য জব্দ করা হয়।
কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স রেড গ্রিন ইন্টারন্যাশনাল ভারত থেকে ২৫ প্যাকেজে ৫০০ কেজি বাটার ফ্লেভার আমদানি করে। চালানটি খালাসের দায়িত্বে ছিল বেনাপোলের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট মেসার্স আহাদ এন্টারপ্রাইজ। প্রাথমিক কায়িক পরীক্ষায় ঘোষণার সঙ্গে পণ্যের মিল পাওয়ার পর পরীক্ষণ প্রতিবেদন অনুযায়ী শুল্কায়ন সম্পন্ন করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই বড় ধরনের অনিয়মের বিষয়টি সামনে আসে।
বেনাপোল কাস্টমস হাউসের কমিশনার ফাইজুর রহমান এই বিষয়ে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমসের গোয়েন্দা সংস্থা আইআরএম অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় ঢাকা মেট্রো-ট-১৩-৬৫৪১ নম্বরের কাভার্ড ভ্যানটি আটক করা হয়। সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, গাড়িচালক ও বন্দরের শ্রমিকদের উপস্থিতিতে গাড়ির তালা খুলে ৬৭টি প্যাকেজে বিভিন্ন অবৈধ পণ্য পাওয়া যায়। জব্দ করা পণ্যের মধ্যে রয়েছে ডিসপোভান সিরিঞ্জ, ইমিটেশন পণ্য, শাড়ি, থ্রিপিস, টি-শার্ট, প্যান্ট এবং অতিরিক্ত পাউডার।
তদন্তে জানা গেছে, ঘোষণাবহির্ভূত এই পণ্যগুলো এর আগে বন্দরের ১২ নম্বর শেড থেকে কাভার্ড ভ্যানে তোলা হয়েছিল। দীর্ঘ দিন ধরে একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এভাবে রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হচ্ছিল বলে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রতীয়মান হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অপরাধে মেসার্স আহাদ এন্টারপ্রাইজের সিঅ্যান্ডএফ লাইসেন্স চূড়ান্তভাবে বাতিল করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
বেনাপোল কাস্টমস হাউসের কমিশনার ফাইজুর রহমান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ঘোষিত ফ্লেভারের সঙ্গে থাকা ঘোষণাবহির্ভূত পণ্যসহ কাভার্ড ভ্যানটি আটক করা হয়। এ চালানে প্রায় ৫৫ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকির তথ্য পাওয়া গেছে এবং অপরাধের সত্যতা মেলায় সংশ্লিষ্ট এজেন্টের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।
বন্দর এলাকায় অবৈধভাবে পণ্য খালাস রোধে এবং রাজস্ব সুরক্ষায় কাস্টমস গোয়েন্দা ও শুল্ক বিভাগের নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের চোরাচালান ও রাজস্ব ফাঁকি প্রতিরোধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে কাস্টমস প্রশাসন।