

ঢাকা: শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে তিন জেলার পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১২ অক্টোবর) ঢাকা থেকে সামরিক বিমানে প্রথমে রংপুর, পরে রাজশাহী ও শেষে চট্টগ্রাম জেলা সফর করেন তিনি। এসব জেলা সফরে বেশ কয়েকটি পথসভা ও জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার পাশাপাশি রাষ্ট্রে সব ধর্মের মানুষকে নিয়ে একসঙ্গে দেশ গড়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি সীমান্ত ও দেশের ভেতর থেকে অস্থিরতা তৈরির চক্রান্তের বিরুদ্ধে সবাইকে সতর্ক থাকার তাগিদ দেন।
সকাল ৯টায় তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে সামরিক বিমানে রংপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। সৈয়দপুর বিমানবন্দর হয়ে তিনি প্রথমে রংপুরের তারাগঞ্জ ও পাগলাপীরে পথসভায় অংশ নেন এবং পরে রাধাগোবিন্দ মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। এরপর দুপুরে রাজশাহী পৌঁছে হাজী মুহম্মদ মহসীন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে রাজশাহী অঞ্চলের ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখ চাষির মধ্যে ১২ কোটি টাকার প্রণোদনা বিতরণ করেন। রাজশাহী ধর্মসভার পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে সার্কিট হাউজে মধ্যাহ্নভোজ সেরে তিনি চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। চট্টগ্রামে পৌঁছে জেএম সেন হল ও রহমতগঞ্জ পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী।
সকল ধর্মের মানুষ একসঙ্গে আমরা এদেশে মানুষের রাজনৈতিক অধিকারকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলাম। আমরা যদি আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে চাই, তাহলে আমাদের সকল ধর্ম-মতের মানুষকে একসঙ্গে দেশের জন্য কাজ করতে হবে।
রাজশাহীর জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে পদ্মা ও তিস্তা নদীতে ব্যারেজ নির্মাণের কাজ শিগগিরই শুরু করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, দেশের অগ্রগতির স্বার্থে এবং কৃষকদের সুবিধার্থে উত্তরাঞ্চলের তিস্তা এবং রাজশাহীর পদ্মায় ব্যারেজ তৈরি করা হবে, যাতে পানির সমস্যা দূর হয়। পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের জন্য যতদূর যাওয়া প্রয়োজন সরকার ততদূরই যাবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। এছাড়া বিএনপি সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে খেটে খাওয়া মানুষের পাশে দাঁড়াতে কৃষি ঋণ মওকুফ, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ধর্মীয় গুরুদের জন্য মাসিক ভাতার ব্যবস্থা করার কথা জানান।
বর্তমান সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার এমন একটি সরকার হতে চায় যা ভোট দিয়েছে এবং দেয়নি সবার জন্যই কাজ করবে। রংপুর মহানগরের উন্নয়নের জন্য ইতোমধ্যে ১৮শ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, স্থানীয় সরকারের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলেও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে। তবে দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং কোনো মহল যাতে মুক্তিযুদ্ধ বা চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানকে বিতর্কিত করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি। অনুষ্ঠান শেষে চট্টগ্রামের কর্মসূচি সেরে রাতেই বিমানযোগে ঢাকায় ফেরেন প্রধানমন্ত্রী।