

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে নগরবাসীর সরাসরি সহযোগিতা চেয়ে খামে ভরা খোলা চিঠি পাঠানোর ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন। মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান কর্মসূচিতে তিনি এই ঘোষণা দেন। এসব চিঠি পর্যায়ক্রমে উত্তর সিটির আওতাধীন প্রতিটি বাসাবাড়ি, অফিস-আদালত, বিপণিবিতান, মসজিদ ও মাদ্রাসায় পৌঁছে দেওয়া হবে।
প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান জানান, ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কেবল সিটি করপোরেশনের মশক নিধন কার্যক্রম যথেষ্ট নয়, বরং নাগরিকদের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য। তিনি বলেন, আমি নিজে নগরবাসীর উদ্দেশে তাঁদের সহযোগিতা কামনা করে একটি খোলা চিঠি লিখেছি। সেই চিঠিগুলো খামের মধ্যে ভরে তাঁদের বাসায় কিংবা কর্মস্থলে পৌঁছানোর চেষ্টা করছি। ইতিমধ্যে আঞ্চলিক কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রতিনিধিদের মাধ্যমে প্রচারপত্র বিতরণের কাজও শুরু হয়েছে।
"নিজের বাড়ি, আঙিনা, ছাদ, বারান্দা ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব আমাদের সবার। এই দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে আপনারাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারেন।" - শফিকুল ইসলাম খান, প্রশাসক, ডিএনসিসি।
চিঠিতে প্রশাসক নগরবাসীকে প্রতি শনিবার সকালে অন্তত কিছু সময় ব্যয় করে নিজ নিজ আঙিনা পরিষ্কার করার বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন। বিশেষ করে ফুলের টব, টবের নিচের ট্রে, বালতি, ড্রাম বা পরিত্যক্ত পাত্রে পানি জমে আছে কি না, তা পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নির্মাণাধীন ভবন ও গ্যারেজে পানি জমার সুযোগ বন্ধ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে চিঠিতে। প্রশাসক সতর্ক করে বলেন, বর্ষা পরবর্তী সময়ে জমে থাকা স্বচ্ছ পানি এডিস মশার বংশবিস্তারের প্রধান ক্ষেত্র হয়ে দাঁড়ায়।
ডিএনসিসি সূত্রে জানা গেছে, এই কর্মসূচির আওতায় প্রাথমিকভাবে ৩৫ হাজার চিঠি ছাপানো হয়েছে। উত্তর সিটির ১০টি অঞ্চলের মাধ্যমে এই চিঠিগুলো ভবন মালিক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। জ্বর হলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে এবং ডেঙ্গু পরীক্ষা করাতে নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে এই চিঠিতে।
আরও পড়ুন: বিশ্ববাজারে অস্থিরতা: জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি নিয়ে যা বললেন উপদেষ্টা
বর্তমানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে নিয়মিত মশক নিধন, লার্ভা ধ্বংস ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, প্রতিটি ঘর থেকে সচেতনতা শুরু না হলে ডেঙ্গুমুক্ত শহর গড়া সম্ভব নয়।