

প্রায় সাত মাস ধরে চলমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতি নিরসনে আবারও আলোচনার টেবিলে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি বন্দর অবরোধ প্রত্যাহার ও সামরিক চাপ কমিয়ে আনে, তবে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে। অন্যদিকে, ওয়াশিংটন জানিয়েছে, আলোচনার মাধ্যমে ইতিবাচক ফলাফলের সম্ভাবনা থাকলে তারা আলোচনায় বসতে আগ্রহী।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শুরু হওয়া এই সংঘাতের প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়। গত জুনে সমঝোতার ভিত্তিতে সাময়িক বিরতি থাকলেও চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ায় পাল্টাপাল্টি হামলা ও অবরোধ অব্যাহত থাকে। বর্তমানে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন উভয় দেশের নীতিনির্ধারকরা, যা কূটনৈতিক আলোচনার নতুন সুযোগ তৈরি করেছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ট্রাম্প একজন বাস্তববাদী ব্যবসায়ী। ইতিবাচক ফলাফলের সম্ভাবনা থাকলে আলোচনা করা যেতে পারে, কারণ কথা বলায় কোনো ক্ষতি নেই।
ইরানি প্রতিনিধিদল সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনা নাকচ করলেও, আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের পূর্ণ ক্ষমতা তাদের হাতে রয়েছে বলে জানিয়েছে। কাতারের মধ্যস্থতায় তেহরান ওয়াশিংটনকে এই প্রস্তাব পাঠিয়েছে। তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও সতর্ক করে বলেছেন, ওয়াশিংটন কোনোভাবেই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেবে না। একই সময়ে, হুতিদের হামলা মোকাবিলায় সৌদি আরবকে সীমিত সামরিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য।
বর্তমানে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে মার্কিন প্রশাসনের নিবিড় যোগাযোগ এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টা চলমান রয়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন কূটনৈতিক বার্তা বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
আরও পড়ুন: বিশ্ববাজারে অস্থিরতা: জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি নিয়ে যা বললেন উপদেষ্টা