

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাজেক ভ্যালি সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। অনিবার্য কারণ দেখিয়ে বুধবার সন্ধ্যা সাতটা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেক পর্যটনকেন্দ্রে পর্যটকদের প্রবেশ ও ভ্রমণ কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বর্তমানে সাজেকে অবস্থানরত পর্যটকদের বৃহস্পতিবার বিকেল চারটার মধ্যে পর্যটন এলাকা ত্যাগ করে নিজ নিজ গন্তব্যে নিরাপদে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বুধবার রাঙামাটির জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফীর স্বাক্ষরিত এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা জারি করা হয়।
এর আগে বুধবার বিকেলে সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন ও সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির পক্ষ থেকে সাজেকে যাতায়াতের সড়কে আবারও অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণার কথা জানানো হয়। তিন দফা দাবি বাস্তবায়ন না হওয়ায় বৃহস্পতিবার থেকে এই কর্মসূচি কার্যকর করার ঘোষণা দেন স্থানীয় নেতারা। সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা এবং সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা স্বাক্ষরিত যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়, শারদীয় দুর্গাপূজার প্রতি সম্মান জানিয়ে এবং স্থানীয় পূজা উদযাপন কমিটির অনুরোধে গত ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত অবরোধ কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছিল। পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ায় বৃহস্পতিবার থেকে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি পুনরায় শুরু করা হবে।
<নিকটস্থ সূত্রে জানা যায়, অনিবার্য কারণবশত পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেক ভ্যালি পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। বর্তমানে পর্যটন এলাকায় অবস্থানরত সবাইকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সাজেক ত্যাগ করে নিরাপদে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।>
জেলা প্রশাসনের বন্ধ ঘোষণার পাশাপাশি স্থানীয় সড়ক অবরোধের কর্মসূচিতে সাজেকের পর্যটন কার্যক্রম ও যাতায়াত নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বৃহস্পতিবার সাজেকগামী পর্যটকবাহী যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই আগাম সতর্কতা নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে পর্যটকদের জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলার পাশাপাশি সাজেক ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকলে যাত্রার আগে প্রশাসন ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে সর্বশেষ পরিস্থিতি জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পরবর্তী সময়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যটনকেন্দ্র খুলে দেওয়ার নতুন নির্দেশনা জানানো হবে।