
প্রিন্ট এর তারিখঃ Oct 23, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Oct 22, 2026 ইং
বাংলাদেশ বনাম আফগানিস্তান: ১৬০ রানে অলআউট টাইগাররা, ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালের স্বপ্ন শেষ
ফাইনালে যেতে হলে জিততেই হবে, শুধু জিতলেই হবে না, জিততে হবে বড় ব্যবধানে। এমন কঠিন সমীকরণ সামনে রেখে শারজাহে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ব্যাট করতে নেমে পুরোপুরি ব্যর্থ হলো বাংলাদেশ। ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে বুধবার টাইগাররা গুটিয়ে গেল মাত্র ১৬০ রানে, ইনিংস থামল ৪১.২ ওভারে। লেগ স্পিনার রশিদ খান একাই নিলেন ৪ উইকেট, দিলেন মাত্র ৩১ রান। এই ছোট পুঁজি নিয়ে আফগানিস্তানকে ১১৯ রানের মধ্যে আটকে রাখার যে অসম্ভব কাজটা বাংলাদেশের সামনে ছিল, তা আর হয়নি। আফগান রান তাড়ায় স্বস্তিতে এগিয়ে যাওয়ায় ম্যাচের ফলাফলের আগেই শেষ হয়ে গেছে বাংলাদেশের ফাইনালের স্বপ্ন।
টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশের অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়। কিন্তু শুরুটা হলো দুঃস্বপ্নের মতো। দ্বিতীয় ওভারেই ইয়ামিন আহমাদজাইয়ের বলে ফিরে যান দুই ওপেনার। তানজিদ হাসান করেন মাত্র ১ রান, সৌম্য সরকার খাতা না খুলেই বোল্ড। নাজমুল হোসেন শান্ত ১৫ রান করে কট বিহাইন্ড হন, আর অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয় ফেরেন শূন্য রানে, আজমাতুল্লাহ ওমরজাইয়ের বলে রিটার্ন ক্যাচে। সাত ওভারের মধ্যে স্কোরবোর্ডে ২৮ রানে ৪ উইকেট, ম্যাচ তখনই প্রায় হাতছাড়া।
সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে ইনিংস টেনে তোলার চেষ্টা করেন পারভেজ হোসেন ইমন ও সাইফ হাসান। পঞ্চম উইকেটে দুজনে গড়েন ৯৩ রানের জুটি, যা বাংলাদেশকে একশ রানের গণ্ডি পার করে দেয়। ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ে সাইফ করেন ৮২ বলে ৪১ রান, ৩২তম ওভারে মোহাম্মদ নবির বলে বদলি ফিল্ডার নাঙ্গেয়ালিয়া খারোতের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। অন্যদিকে ইমন ছিলেন শুরু থেকে শেষ অবধি লড়াইয়ের নাম। লিটন দাসের বদলি হিসেবে দলে আসা এই ওপেনার তুলে নেন ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ওয়ানডে ফিফটি। তাঁর ৯৬ বলের ৭০ রানের ইনিংসে ছিল পাঁচটি চার ও দুটি ছক্কা।
কিন্তু ইমনের একার লড়াইয়ে বড় স্কোর গড়া যায়নি। মেহেদী হাসান মিরাজ ফেরেন মাত্র ২ রানে, শরিফুল ইসলাম করেন ৭। শেষ দিকে রশিদ খান আবার ঝাঁপিয়ে পড়েন। ৪০তম ওভারে তিনি ফিরিয়ে দেন ইমনকে, তারপর অভিষিক্ত আলিস আল ইসলাম ও মোস্তাফিজুর রহমানকে আউট করে শেষ করে দেন ইনিংস। রশিদের এটি ছিল এই সিরিজে টানা দ্বিতীয় চার উইকেটের শিকার, ওয়ানডে ক্যারিয়ারে তাঁর অষ্টম চার উইকেট। ইয়ামিন আহমাদজাই ও আজমাতুল্লাহ ওমরজাই নেন দুটি করে উইকেট, নবি ও বিলাল সামি পান একটি করে। বাংলাদেশের হয়ে এই ম্যাচে ওয়ানডে অভিষেক হয় অফস্পিনার আলিস আল ইসলামের।
ম্যাচের সমীকরণ ছিল স্পষ্ট। জিম্বাবুয়েকে নেট রান রেটে পেছনে ফেলে শুক্রবারের ফাইনালে যেতে বাংলাদেশকে জিততে হতো অন্তত ৪১ রানে, অর্থাৎ আফগানিস্তানকে অলআউট করতে হতো ১১৯ রানের মধ্যে। ১৬১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আফগানিস্তান শুরুতে রহমানুল্লাহ গুরবাজ (৬) ও সেদিকুল্লাহ আতালকে (৪) হারালেও তাসকিন আহমেদের দুই উইকেটের পর রহমত শাহ ও অধিনায়ক হাশমাতুল্লাহ শাহিদি ম্যাচ পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেন। রহমত অপরাজিত থাকেন ৬৬ রানে, শাহিদি করেন অপরাজিত ৩৪। ইব্রাহিম জাদরান আউট হন ৩৪ রানে। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আফগানিস্তানের স্কোর ছিল ৩৪.৪ ওভারে ৩ উইকেটে ১৫৭, জয়ের জন্য বাকি ছিল মাত্র ৪ রান। তবে ফাইনালের হিসাব মিটে গেছে আরও আগেই, আফগানিস্তান ১১৯ রান পেরোনোর মুহূর্তেই।
সিরিজের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে হেরে যাওয়াই বাংলাদেশকে এই কঠিন জায়গায় ঠেলে দিয়েছিল। অন্যদিকে আফগানিস্তান জিম্বাবুয়েকে ১৫৮ রানে হারিয়ে আগেই ফাইনালের পথে শক্ত অবস্থান তৈরি করে রেখেছিল। শারজাহর ধীর উইকেটে টাইগার ব্যাটারদের ব্যর্থতা আবারও সামনে এনে দিল পুরনো প্রশ্ন, বড় ম্যাচে চাপের মুখে এই ব্যাটিং লাইনআপ কতটা নির্ভরযোগ্য।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ ঢাকা স্টোরি ২০২৬