
প্রিন্ট এর তারিখঃ Oct 22, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Oct 22, 2026 ইং
চার বছরের বেশি কারাবাসের পর মুক্তি পেলেন মার্কিন শিক্ষক স্টিফেন হাবার্ড
চার বছরের বেশি সময় রাশিয়ার কারাগারে বন্দি থাকার পর অবশেষে মুক্তি পেয়েছেন মার্কিন নাগরিক স্টিফেন হাবার্ড (৭৪)। বুধবার (২১ অক্টোবর) সেন্ট পিটার্সবার্গে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের বৈঠকের সময় তার মুক্তির কথা জানানো হয়। পুতিনের সহকারী ইউরি উশাকভ জানিয়েছেন, পুতিন হাবার্ডকে ক্ষমা করেছেন। মুক্তির পর তাকে সেন্ট পিটার্সবার্গের পুলকোভো বিমানবন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়, সেখান থেকে উইটকফের সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পথে রওনা হন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, সম্প্রতি এক ফোনালাপে তিনি নিজে পুতিনকে হাবার্ডকে ছেড়ে দিতে অনুরোধ করেছিলেন। আগের বন্দি মুক্তির ঘটনাগুলোর সঙ্গে এই ঘটনার পার্থক্য হলো, এবার যুক্তরাষ্ট্রকে বিনিময়ে কাউকে ছাড়তে হয়নি। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, হাবার্ড এখন "সবচেয়ে সুখী মানুষ", তাকে তিনি "খুবই ভালো মানের, নিরপরাধ মানুষ" হিসেবে বর্ণনা করেন। নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লিখেছেন, "ওয়েলকাম হোম, স্টিফেন, তোমাকে ফিরে পেয়ে দারুণ লাগছে।"
বৈঠকে উইটকফ পুতিনকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, "আপনার জন্যই সে পরিবারের কাছে বাড়ি ফিরে যাচ্ছে।" তিনি পুতিনকে "মানবিক" বলেও প্রশংসা করেন। প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, বিমানবন্দরে উইটকফের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছেন সদ্য মুক্ত হাবার্ড, দূতকে ধন্যবাদও জানান তিনি। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ রুশ গণমাধ্যমকে বলেছেন, কিছুদিন ধরে মার্কিন পক্ষ বিষয়টি তুলে আসছিল, মানবিক বিবেচনা থেকেই পুতিন তাকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
মিশিগানের বাসিন্দা হাবার্ড মার্কিন বিমানবাহিনীর সাবেক সদস্য, পেশায় ছিলেন ইংরেজির শিক্ষক। বিদেশে শিক্ষকতা করে ২০১২ সালে তিনি অবসর নেন। প্রথমে সাইপ্রাসে ছিলেন, পরে পরিচিত এক নারীর কাছে ২০১৪ সালে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় শহর ইজিয়ামে গিয়ে বসবাস শুরু করেন। সম্পর্ক শেষ হয়ে গেলেও তিনি সেখানেই থেকে যান। ২০২২ সালের এপ্রিলে রুশ বাহিনী ইজিয়াম দখল করে নিলে তাকে আটক করা হয়। রাশিয়ার অভিযোগ ছিল, তিনি ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে চুক্তি করে ভাড়াটে সৈনিক হিসেবে লড়াই করেছেন এবং দুই মাস পর ধরা পড়েন।
২০২৪ সালে রুদ্ধদ্বার বিচারে হাবার্ডকে প্রায় সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তৎকালীন বাইডেন প্রশাসনের সময় যুক্তরাষ্ট্র তাকে "অন্যায়ভাবে আটক" ব্যক্তি হিসেবে ঘোষণা করেছিল। তার আইনজীবী দল ও পরিবার প্রথম থেকেই রাশিয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে। তাদের দাবি, কোনো ধরনের সামরিক কর্মকাণ্ডে হাবার্ড জড়িত ছিলেন না।
মুক্তির খবরে পরিবারে নেমে এসেছে স্বস্তি আর আনন্দ। বোন প্যাট্রিসিয়া হাবার্ড ফক্স ফোনে ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি জানান, হাবার্ড তখন হাসছিলেন আর বলছিলেন, "বিশ্বাসই হচ্ছে না, এটা সত্যি ঘটছে।" বোনের ভাষ্যে, ভাই ভেবেছিলেন তিনি হয়তো কারাগার থেকে জীবিত বের হতে পারবেন না। বন্দিদশায় ভাইকে মারধর করা হয়েছে এবং অনাহারে রাখা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করতে তিনি টেক্সাসের সান আন্তোনিওর দিকে রওনা হয়েছেন, সেখানে একটি সামরিক স্থাপনায় হাবার্ডের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা হওয়ার কথা রয়েছে। বোন আশা করছেন, সুস্থ হয়ে হাবার্ড তার কাছে কলোরাডোতে থাকবেন। তার এক আইনজীবীর ভাষ্যে, পরিবারের কাছে এই মুক্তি যেন এক অলৌকিক ঘটনা।
প্রায় দুই মাসের মধ্যে রাশিয়া থেকে মুক্তি পাওয়া দ্বিতীয় মার্কিন নাগরিক হাবার্ড। এর আগে আগস্টে মুক্তি পেয়েছিলেন সাবেক মেরিন সদস্য রবার্ট গিলম্যান। "অন্যায়ভাবে আটক" হিসেবে তালিকাভুক্ত মার্কিনদের মধ্যে হাবার্ডই ছিলেন শেষ জন, তবে নানা অভিযোগে আরও কয়েকজন মার্কিন নাগরিক এখনো রাশিয়ার কারাগারে বন্দি আছেন, তাদের কারো কারো শারীরিক অবস্থা গুরুতর।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ ঢাকা স্টোরি ২০২৬