

চট্টগ্রাম: দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী খ্যাত চট্টগ্রামে মাদক, সন্ত্রাস ও অবৈধ অস্ত্র নির্মূলে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন পানি সম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে আয়োজিত জেলা আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিশেষ মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই কঠোর অবস্থানের কথা জানান। চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে এই গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
চট্টগ্রাম একটি ঐতিহ্যবাহী ও দেশের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক অঞ্চল উল্লেখ করে পানি সম্পদমন্ত্রী বলেন, এই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নগরীর মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন ও নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। সুনির্দিষ্ট তথ্য ও জনস্বার্থ বিবেচনা করে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং মাদক নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
"মাদককে সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। জনস্বার্থ ও জনগণের প্রয়োজন বিবেচনায় অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, মাদক নিয়ন্ত্রণ ও সন্ত্রাস দমনে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।" - মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, পানি সম্পদমন্ত্রী
সভায় জেলার কোথায় অবৈধ অস্ত্র রয়েছে এবং কোথায় মাদকের বিস্তার ঘটছে, তা চিহ্নিত করে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এ সময় নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিলের মাধ্যমে সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টার প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, কোনোভাবেই অরাজকতা বা সন্ত্রাস সৃষ্টি করতে দেওয়া হবে না। আইনি ব্যবস্থার পাশাপাশি রাজনৈতিকভাবেও এসব অপতৎপরতা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে। অপরাধীরা যে দলের বা পরিচয়েরই হোক না কেন, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও সতর্ক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়।
১৭ বছরের পুঞ্জীভূত সমস্যা অল্প সময়ে পুরোপুরি সমাধান সম্ভব নয় উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সরকারের সুদৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছা রয়েছে এবং দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক গুরুত্ব ও সার্বিক উন্নয়নকাজ এবার সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়া হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সভায় স্থানীয় প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।