

পশ্চিমা বিশ্বের ক্রমবর্ধমান সমালোচনা ও আইসিসির গ্রেফতারি পরোয়ানার উপেক্ষা করে গাজায় সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। শুক্রবার নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার সময় ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ায় পশ্চিমা দেশগুলোর বিরুদ্ধে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। তার এই বক্তব্য শুরু হওয়ার সাথে সাথেই বহু দেশের প্রতিনিধি প্রতিবাদস্বরূপ কক্ষ ত্যাগ করেন, যার ফলে একটি প্রায় ফাঁকা মিলনায়তনে তাকে ভাষণ দিতে হয়।
ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার পদক্ষেপকে 'লজ্জাজনক সিদ্ধান্ত' হিসেবে অভিহিত করে নেতানিয়াহু দাবি করেন যে, এই পদক্ষেপ বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবাদকে উৎসাহিত করবে। ২০২৩ সালের অক্টোবরের হামলার পর থেকে গাজায় ইসরায়েলের চালানো ধ্বংসযজ্ঞকে আত্মপক্ষ সমর্থন করে তিনি বলেন, ইসরায়েল তার শত্রুদের বিরুদ্ধে সাতটি ফ্রন্টে যুদ্ধ পরিচালনা করছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যার অভিযোগ তুললেও তিনি তা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন এবং এর জন্য হামাসকে দায়ী করেন।
“পশ্চিমা নেতারা চাপের মুখে নতিস্বীকার করে থাকতে পারেন। তবে আমি আপনাকে একটি বিষয়ে নিশ্চয়তা দিচ্ছি: ইসরায়েল তা করবে না।” - বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী
ভাষণের সময় নেতানিয়াহু অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় বন্দী ইসরায়েলি জিম্মিদের উদ্দেশে সরাসরি বার্তা দেন এবং হামাসকে অস্ত্র সমর্পণ করার আহ্বান জানান। এদিকে, জাতিসংঘের অধিবেশনে এই বক্তব্যের সময় বাইরে নিউ ইয়র্কের রাজপথে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়ে ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তীব্র বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। ফিলিস্তিনি যুব আন্দোলনের প্রতিনিধিরা এই সফরকে অনৈতিক ও বিবেকহীন বলে আখ্যায়িত করেন। অন্যদিকে, ইসরায়েলের বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ নেতানিয়াহুর এই ভাষণকে পুরোনো কৌশলে ভরা একঘেয়ে বক্তব্য বলে সমালোচনা করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ব্যাপক চাপ সত্ত্বেও গাজায় যুদ্ধ বন্ধের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক ও সামরিক সহায়তার ওপর ভর করে ইসরায়েল তাদের সামরিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। গাজা সরকারও এই বক্তব্যকে মিথ্যাচার ও যুদ্ধাপরাধ ধামাচাপা দেওয়ার অপচেষ্টা বলে মন্তব্য করেছে।