

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের প্রথম দিনে ১০টি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন জানান, এই কর্মসূচিগুলোতে বাংলাদেশের আঞ্চলিক, অর্থনৈতিক ও মানবিক স্বার্থ সর্বোচ্চ গুরুত্ব পেয়েছে।
দিনটির সূচনা হয় জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের দেওয়া প্রাতঃরাশে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে। এরপর প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক পর্বের উদ্বোধনী অধিবেশনে যোগ দেন। পাশাপাশি তিনি ভুটানের প্রধানমন্ত্রী, মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্ট, হাইতির প্রধানমন্ত্রী এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ানের সঙ্গে পৃথক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন।
তুরস্কের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে প্রতিরক্ষা, বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক ও বহুপক্ষীয় ফোরামে সহযোগিতাসহ দুই দেশের সামগ্রিক অংশীদারত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
রোহিঙ্গার নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে ইউএনএইচসিআরের প্রতিনিধি এবং মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূতের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গার সঙ্গে বৈঠকে বৈশ্বিক ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে দেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার এবং অংশীদারত্ব জোরদার করার উপায় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, বৈদেশিক অর্থনৈতিক ধাক্কা মোকাবিলা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বাংলাদেশকে সহায়তা বাড়াতে সম্মত হয়েছে বিশ্বব্যাংক।
নির্ধারিত ১২টি কর্মসূচির মধ্যে সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে ইউরোপীয় কাউন্সিল ও মেটার সঙ্গে সরাসরি বৈঠক দুটি সম্ভব না হলেও, একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল মেটার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে। আগামী বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রথমবারের মতো ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর আগে তার এই ব্যস্ত কূটনৈতিক তৎপরতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করবে বলে আশা করা হচ্ছে।