

নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিয়ে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের বক্তব্য চলাকালীন মোবাইল ফোনে রিলস দেখতে দেখা গেছে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারাকে। মঙ্গলবার সাধারণ পরিষদের হলের ভেতরের এই দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি হওয়ার পর তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং বিশ্বজুড়ে আলোচনা শুরু হয়। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির কূটনীতি ও পুনর্গঠন নিয়ে নানা গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার মাঝে শীর্ষ এই নেতার এমন অসতর্ক মুহূর্ত আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও জায়গা করে নিয়েছে।
ভারতের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বিশ্বনেতাদের এই মর্যাদাপূর্ণ সমাবেশে মঞ্চে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট যখন সিরিয়ার সংকটসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক বিষয় নিয়ে ভাষণ দিচ্ছিলেন, ঠিক সেই সময়েই নিজের স্মার্টফোনে ব্যস্ত ছিলেন আল-শারা। কিছু সূত্রের দাবি, তিনি কেবল রিলস দেখছিলেন না, বরং সেগুলো শেয়ারও করছিলেন। তবে ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিও ফুটেজ থেকে স্পষ্ট নয় যে তিনি ঠিক কী দেখছিলেন বা কারও সঙ্গে বার্তা আদান-প্রদান করছিলেন কিনা।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে বিশ্বনেতারা যখন বিশ্বরাজনীতির জটিল সমীকরণ নিয়ে ব্যস্ত, তখন সিরিয়ার শীর্ষ নেতার এমন মোবাইল প্রীতি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক কৌতূহল ও প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।
ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার সঙ্গে সঙ্গে প্ল্যাটফর্ম এক্সসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানামুখী মন্তব্য শুরু হয়। আল-শারার এই কর্মকাণ্ডে অনেকেই সাধারণ মানুষের সঙ্গে তার মিল খুঁজে পেয়েছেন। একজন ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন যে বিরক্তিকর কোনো বক্তৃতা শোনার সময় তিনিও হয়তো অন্যদের মতো ডুমস্ক্রল করতেন। তবে অতীতে আল-শারার রাজনৈতিক ও বিদ্রোহী সংশ্লিষ্টতার ইতিহাস টেনে অন্য অনেকে কঠোর বা কৌতূহলোদ্দীপক সমালোচনাও করেছেন। সার্বিক এই ঘটনায় বিশ্বমঞ্চে রাজনৈতিক নেতাদের ব্যক্তিগত আচরণের বিষয়টি আবারও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সিরিয়ার পুনর্গঠন এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বরফ গলানোর প্রক্রিয়ায় এই ঘটনা বড় কোনো প্রভাব না ফেললেও, এটি ডিজিটাল যুগে রাষ্ট্রপ্রধানদের প্রটোকল ও গোপনীয়তার ঘাটতির একটি বড় উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে। আগামী দিনে জাতিসংঘের বিভিন্ন ফোরামে বিশ্বনেতাদের উপস্থিতি এবং ডিজিটাল ডিভাইসের ব্যবহার নিয়ে নতুন করে নানামুখী প্রশ্ন উঠতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।