

টোকিও: ঘরের বাইরে বিকট শব্দে ফাটছে বোমা আর জানালা খুললেই চোখে পড়ছে ধোঁয়ার কুণ্ডলী, এমন চরম যুদ্ধাবস্থার মধ্যেই কোনো নৌকা ও সতীর্থ ছাড়াই একাকী অনুশীলন চালিয়ে এশিয়ান গেমসে স্বর্ণপদক অর্জন করেছেন ইরানের নারী রোয়ার কিমিয়া জারেই। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার মুখে যখন পুরো ইরান অবরুদ্ধ এবং জাতীয় ক্যাম্প বাতিল করা হয়েছিল, তখন ঘরে বসেই অ্যারগোমিটার মেশিনের সাহায্যে প্রতিদিন প্রায় ২০ কিলোমিটার পথ রোয়িং করে এই অসামান্য সাফল্য অর্জন করেন তিনি।
গেমস শুরু হওয়ার মাত্র ছয় মাস আগে যুদ্ধ শুরু হলে রোয়িং ফেডারেশন জাতীয় ক্যাম্প বাতিল করে অ্যাথলেটদের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। হামাদানে নিজের বাড়িতে অবরুদ্ধ হয়ে পড়া কিমিয়া জারেই কোচের পাঠানো ট্রেনিং শিডিউল অনুসরণ করে প্রতিদিন ঘরের ভেতরেই অনুশীলন চালিয়ে যান। বোমাবর্ষণের তীব্র শব্দে মাঝেমধ্যে তাকে ঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে হলেও রোয়িংয়ের অনুশীলন বন্ধ রাখেননি এই অ্যাথলেট।
আমাদের একটাই উপায় ছিল, একটি করে অ্যারগোমিটার মেশিন সাথে নিয়ে সোজা বাড়ি চলে যাওয়া। আমরা বাড়িতে বসেই প্রতিদিনের অনুশীলনের সেশন শেষ করতাম এবং কোচের পাঠানো শিডিউল দেখে রোয়িং চালিয়ে যেতাম, বলেন কিমিয়া জারেই।
ইরানের রোয়িং ফেডারেশনের প্রধান মহসেন শাদি নাগাদেহ জানান, যুদ্ধ শুরুর পর ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হলেও তারা দমে না গিয়ে প্রতিটি রোয়ারকে বাড়িতে অ্যারগোমিটারের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। তিন বছর আগে হাংঝৌ এশিয়ান গেমসে চতুর্থ স্থান অধিকার করে খালি হাতে ফেরার হতাশা এবং পরবর্তী তিন বছরের অক্লান্ত পরিশ্রম ও ইতিবাচক মানসিকতাই জারেইকে এই কঠিন পরিস্থিতিতেও লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জ্বালানি জুগিয়েছিল।
পরবর্তীতে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে দলটি প্রশিক্ষণ শিবিরে ফিরে উরমিয়াতে ওয়াটার কোর্সে পানিতে অনুশীলন শুরু করে। দীর্ঘ ৪৫ দিনের অনিশ্চয়তা আর যুদ্ধের ভয়াবহতা পেছনে ফেলে নারীদের লাইটওয়েট ডাবল স্কালসে জয়নব নওরোজির সাথে জুটি বেঁধে ফাইনালে সেরার মুকুট পরেছেন জারেই। নাগোয়ায় ফিনিশ লাইন অতিক্রম করার পর কান্নায় ভেঙে পড়া এই অ্যাথলেট জানান, এই পদক কেবল তার একার নয়, বরং এটি সমগ্র ইরানি জনগণ এবং দেশের নারী সমাজের জন্য উৎসর্গীকৃত।