

ঢাকা: চলচ্চিত্র নির্মাতা ও সাবেক সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরওয়ার ফারুকীর ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক করার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার সন্ধ্যায় তিনি নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রবেশ করতে না পারার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ঘটনার শুরু থেকেই বিষয়টি নিয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা ও সাইবার সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
নির্মাতা ফারুকী জানান, শনিবার সকাল থেকেই তিনি তার ব্যক্তিগত ও ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রবেশের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। তার দাবি, প্রথমে অ্যাকাউন্টটি হায়ারজ্যাক বা দখলের চেষ্টা চালানো হয় এবং পরে সেই চেষ্টা সফল না হওয়ায় অ্যাকাউন্টটি নিষ্ক্রিয় বা ডিঅ্যাক্টিভ করে দেওয়া হয়। সাম্প্রতিক সময়ে তাকে ঘিরে চলা নানা অপপ্রচারের সঙ্গেই এই সাইবার হামলার যোগসূত্র রয়েছে বলে মনে করছেন তিনি।
এ বিষয়ে মোস্তফা সরওয়ার ফারুকী গণমাধ্যমকে জানান, তাকে লক্ষ্য করে দীর্ঘদিন ধরেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছিল। সেই অপপ্রচারে ব্যর্থ হয়েই দুর্বৃত্তরা তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে হামলা চালিয়েছে। তবে এই হ্যাকিংয়ের সঙ্গে সুনির্দিষ্টভাবে কারা জড়িত, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানাতে পারেননি এই নির্মাতা।
বাংলাদেশে বিশিষ্ট ব্যক্তি ও শিল্পীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার ঘটনা নতুন নয়। এর আগেও অনেক সেলিব্রিটি ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বের অ্যাকাউন্ট সাইবার আক্রমণের শিকার হয়েছে। ফারুকীর মতো একজন পরিচিত ব্যক্তিত্ব ও সাবেক সরকারি কর্মকর্তার অ্যাকাউন্ট এভাবে হ্যাক হওয়ায় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় বাধা দিতে বা হেনস্তা করার উদ্দেশ্যে এ ধরনের সাইবার হামলা চালানো হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
বর্তমানে অ্যাকাউন্টটি উদ্ধারের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মের সহায়তা চাওয়া হয়েছে কি না বা এ বিষয়ে আইনগত কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি। তবে এই ঘটনার পর থেকে ডিজিটাল পরিমণ্ডলে তার অনুসারী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে উদ্বেগ লক্ষ্য করা গেছে। সাইবার অপরাধ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হাইপ্রোফাইল অ্যাকাউন্টগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করতে দ্বি-স্তর বিশিষ্ট যাচাইকরণ বা টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন আরও কঠোরভাবে ব্যবহার করা উচিত।