

ঢাকা: শুধু বিচারপতি বা বেঞ্চের সংখ্যা বাড়িয়ে আদালতের মামলার জট কমানো সম্ভব নয়, বরং দ্রুত মামলা নিষ্পত্তির হার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। রোববার (২৫ অক্টোবর) নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত বিচার পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করার ওপরও জোর দেন তিনি।
অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, বেঞ্চ বাড়ানোর চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো সংশ্লিষ্ট বেঞ্চগুলোতে প্রকৃতপক্ষে কতসংখ্যক মামলা নিষ্পত্তি হচ্ছে তা বিবেচনা করা। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের একটি বিশেষ বেঞ্চের উদাহরণ দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, ওই বেঞ্চ স্বল্প সময়ে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত মামলার নিষ্পত্তি করেছে। অথচ একই এখতিয়ারসম্পন্ন অন্য বেঞ্চগুলো হয়তো সেই তুলনায় কম মামলা নিষ্পত্তি করেছে। তাই কেবল সংখ্যা বাড়ালেই জট কমবে না, কাজের গতিও বাড়াতে হবে।
প্রয়োজন বিবেচনায় প্রধান বিচারপতি বেঞ্চ বা বিচারপতির সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন। তবে শুধু বেঞ্চ বাড়ালেই মামলার স্তূপ কমবে না। একই সঙ্গে মামলা নিষ্পত্তির গতিও বাড়াতে হবে। - অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল
কারাগারে থাকা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করার ওপর বিশেষ জোর দিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, দোষী সাব্যস্ত হলে তারা আইন অনুযায়ী সাজা ভোগ করবেন, আর নির্দোষ হলে খালাস পাবেন। বিচারপ্রার্থীদের এই মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই। এছাড়া সুপ্রিম কোর্টের এজলাসে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি জানান, স্থানস্বল্পতা ও আইনজীবীদের ভিড় এড়াতে নির্দিষ্ট প্রতিনিধি পাঠানোর একটি বিকল্প প্রস্তাব নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা চলছে। গাজীপুরের একটি মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী হেনস্তার ঘটনাটি আবেগের বশবর্তী না হয়ে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় বিচার বিভাগে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে হলে কেবল অবকাঠামো বা জনবল বৃদ্ধি নয়, বরং মামলার রায় দ্রুত কার্যকরের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, বিচার বিভাগের দীর্ঘসূত্রিতা কমাতে এই ধরনের নীতিগত পর্যবেক্ষণ ও কার্যকর পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।