

ভারতের গুজরাটের নর্মদা অঞ্চল থেকে টনকে টন ইলিশ বাংলাদেশে প্রবেশ করলেও তা ভোক্তাদের মন জয় করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। পদ্মার ইলিশের সুপরিচিত স্বাদ ও সুবাস না থাকায় এবং রান্নার সময় মাছ ভেঙে যাওয়ায় ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের মাঝেই তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। দেশের বাজারে দেশি ইলিশের সরবরাহ কমার সুযোগে এই মাছ বাজারে প্রবেশ করেছিল।
গত কয়েক মাসে বেনাপোল বন্দর দিয়ে প্রায় ৫৫৩ টন গুজরাটের ইলিশ বাংলাদেশে প্রবেশ করে। কম দাম ও বড় আকারের কারণে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এই মাছগুলোকে পদ্মার ইলিশ বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু সাধারণ মানুষের পাতে পড়ার পর আসল ও নকল ইলিশের পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে গত ২৩ সেপ্টেম্বর আমদানিকারকদের ১০৩টি অনাপত্তিপত্র বা এনওসি বাতিল করে ভারত থেকে ইলিশ আমদানি আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করে দেয় বাংলাদেশ সরকার।
বাজারে এই মাছ নিয়ে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি নিয়ে ক্রেতা নারায়ণ চন্দ্র বলেন, মাছটি ভাজার সময় টুকরোগুলো ভেঙে যেতে থাকে এবং এর মধ্যে কাঙ্ক্ষিত সেই স্বাদ ও সুবাস পাওয়া যায়নি। চাঁদপুর নিবাসী আলমগীর পাটোয়ারী জানান, গুজরাটের এই মাছ দেখতে সামুদ্রিক মাছের মতো এবং এতে পদ্মার ইলিশের সেই ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি স্বাদ নেই।
কম দামে কিনে লাভের আশায় যেসব ব্যবসায়ী গুজরাটের ইলিশের বাজারে ঝুঁকি নিয়েছিলেন, তারাও শেষ পর্যন্ত সফল হতে পারেননি। এ বিষয়ে পাইকারি মাছ ব্যবসায়ী দাস জানান, প্রতি কেজির কর ও অন্যান্য খরচ বাদ দিয়ে দোকানদারদের পর্যাপ্ত লাভ হচ্ছিল না, উল্টো মানের দিক থেকে বদনাম ছড়াচ্ছিল। বাংলাদেশ মেরিন ফিশারি অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শেখ আবিদ হোসেনের মতে, আমদানি বন্ধের ঘোষণা আসার পরও অবৈধ পথে সুন্দরবন সীমান্ত দিয়ে গুজরাটের ইলিশের চালান আসার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
বাঙালির পাতে মাছের রাজা হিসেবে পরিচিত ইলিশের ঐতিহ্য ও চাহিদার সাথে আমদানিকৃত এই মাছটি কোনোভাবেই খাপ খাওয়াতে পারেনি। সামুদ্রিক এই মাছের ভিন্ন স্বাদের কারণে ভোক্তারা এখন পুরোপুরি দেশি ইলিশের দিকেই ফিরে যাচ্ছেন এবং গুজরাটের ইলিশ বাণিজ্য মুখ থুবড়ে পড়েছে।