

সিডনি: নিউজিল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডার্ন অস্ট্রেলিয়ার মর্যাদাপূর্ণ সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা ও গবেষণার পেশায় যুক্ত হয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়টির মেডিসিন অ্যান্ড হেলথ অনুষদে তাকে 'প্রফেসর অব প্র্যাকটিস' পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যেখানে তিনি সহানুভূতিশীল নেতৃত্ব, সামাজিক সংহতি ও নাগরিক আস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করবেন।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দীর্ঘ মেয়াদে দায়িত্ব পালনের পর ২০২৩ সালে পদত্যাগ করেন জাসিন্ডা আরডার্ন। তার এই নতুন দায়িত্ব কোনো পূর্ণকালীন শিক্ষকতার পদ নয়। মূলত তার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সংকট মোকাবিলায় দূরদর্শিতা এবং জনসেবার শিক্ষা শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দেওয়াই এই ভূমিকার মূল লক্ষ্য। বৈশ্বিক স্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ, অন্তর্ভুক্তি এবং মানুষের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করার নতুন উপায় নিয়ে তিনি কাজ করবেন। পাশাপাশি অতিথি বক্তা হিসেবে বিশেষ লেকচার ও মাস্টারক্লাস পরিচালনা করবেন তিনি।
নতুন এই দায়িত্ব গ্রহণ নিয়ে নিজের অনুভূতির কথা জানিয়ে জাসিন্ডা আরডার্ন বলেন, সমাজকে আরও ভালোভাবে সেবা দেওয়ার উপায় খুঁজে বের করা এবং সেগুলোকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার বিষয়ে তিনি গভীরভাবে আগ্রহী। প্রধানমন্ত্রীত্ব ছাড়ার পর থেকেই নেতৃত্বের নানা দিক নিয়ে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। তার মতে, বর্তমান বিশ্বের জটিল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর নেতৃত্বকে উৎসাহিত করা অত্যন্ত জরুরি।
সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও প্রেসিডেন্ট মার্ক স্কট এই নিয়োগের বিষয়ে বলেন, জনজীবনে আরডার্নের সাহস ও মানবিকতার প্রতি দীর্ঘদিনের শ্রদ্ধা রয়েছে। শিক্ষার্থীরা তার মতো একজন অভিজ্ঞ নেতার কাছ থেকে শেখার সুযোগ পাবে। তার এই অভিজ্ঞতা শুধু একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর অভিজ্ঞতা নয়, বরং জননেতৃত্ব ও জনসেবা সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা বহন করে।
বর্তমান বিশ্বের জটিল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় নেতৃত্বকে আরও কার্যকরভাবে সহায়তা ও উৎসাহিত করা জরুরি। সমাজকে সেবা দেওয়ার নতুন উপায় খুঁজে বের করতে আমি সচেষ্ট থাকব। - জাসিন্ডা আরডার্ন
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে মাত্র ৩৭ বছর বয়সে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন জাসিন্ডা আরডার্ন। ২০২৩ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালনকালে তাকে ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে সন্ত্রাসী হামলা, হোয়াকারি হোয়াইট আইল্যান্ডে আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত এবং কোভিড-১৯ মহামারির মতো বড় বড় সংকট অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে হয়। প্রধানমন্ত্রী পদ ছাড়ার পর নিউজিল্যান্ডের প্রতি অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে 'ডেমহুড' উপাধিতে ভূষিত করা হয়। বর্তমানে তিনি ও তার পরিবার অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন।