

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট তীব্র ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের তাণ্ডবে অন্ধ্রপ্রদেশে অন্তত পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ পুদুচেরি ও অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূল অতিক্রম করার সময় এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিশাখাপত্তনম, আনারাপল্লি, কাকিনাডা, কোনাসীমা এবং পশ্চিম গোদাবরী জেলায় প্রাণহানির এই ঘটনাগুলো ঘটে। আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, স্থলভাগে আঘাত হানার সময় ঝড়টির বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার।
গত সোমবার ভোরে গভীর নিম্নচাপ থেকে জন্ম নেওয়া ঘূর্ণিঝড়টি মঙ্গলবার রাত থেকে স্থলভাগে প্রবেশের প্রক্রিয়া শুরু করে এবং প্রায় ছয় ঘণ্টা ধরে এর প্রভাব বজায় থাকে। অন্ধ্রপ্রদেশের পাশাপাশি ওড়িশার উপকূলবর্তী এলাকাতেও ঝড়ের তীব্র প্রভাব পড়েছে। ওড়িশার গোপালপুর ও পুরীসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত এবং ঝড়ের তাণ্ডব চলছে। অর্ণবের প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গের উপকূলীয় অঞ্চল এবং কলকাতাসহ বিভিন্ন জেলাতেও ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি শুরু হয়েছে।
দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে দুই রাজ্যের উপকূলীয় এলাকা থেকে ১ লক্ষ ৮০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ঝড়ের তাণ্ডবে ব্যাহত হয়েছে বিদ্যুৎ পরিষেবা। বহু এলাকায় বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে পড়ার পাশাপাশি কাঁচা বাড়ি এবং গাছপালা ভেঙে পড়েছে। দক্ষিণবঙ্গের সব জেলায় বুধবার হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং সমুদ্র উত্তাল থাকায় উপকূলীয় লোকালয়ে ঢেউ আছড়ে পড়ছে।
আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টি স্থলভাগে প্রবেশ করার পর ধীরে ধীরে শক্তি হারালেও এর প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলে সতর্কতা বজায় রাখা হয়েছে। উদ্ধার কাজের জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও দুর্যোগ মোকাবিলা দলগুলো মাঠে সক্রিয় রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা দ্রুত স্বাভাবিক করতে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বঙ্গোপসাগরে এ ধরনের শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের প্রবণতা বাড়ছে, যা উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ। বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজ্য সরকারগুলোর পক্ষ থেকে সব ধরনের জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে থাকতে বলা হয়েছে।