

ময়মনসিংহের দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলায় নানাবাড়িতে বেড়াতে আসা ১১ বছর বয়সী এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত শনিবার বিকেলে এই ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটে এবং পরবর্তীতে গতকাল সোমবার রাতে পাগলা থানায় লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নথিভুক্ত করা হয়। পুলিশ ইতিমধ্যে ভুক্তভোগী শিশুটিকে উদ্ধার করে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশুটির প্রকৃত বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলার হোসেনপুর উপজেলায়। সম্প্রতি সে গফরগাঁও উপজেলার দক্ষিণ গফরগাঁওয়ে তার নানাবাড়িতে বেড়াতে আসে। গত শনিবার বিকেলে বাড়ির পেছনে পাতা কুড়ানোর সময় স্থানীয় এক মাদ্রাসার ছাত্র তাকে কৌশলে একটি পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে। এ সময় শিশুটির চিৎকার শুনে আশপাশের দুই নারী এগিয়ে আসলে অভিযুক্ত কিশোর দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
ঘটনা জানাজানির পর স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালীদের মাধ্যমে সালিস বসিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়া বা আপস-মীমাংসার চেষ্টা চালানো হয়। তবে সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর শিশুটির নানা বাদী হয়ে থানায় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। গতকাল সন্ধ্যায় তারা থানায় উপস্থিত হয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন এবং রাত ১২টার পর পুলিশ তা নিয়মিত মামলা হিসেবে গ্রহণ করে।
এ বিষয়ে পাগলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোড় আমিনুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, নানাবাড়িতে বেড়াতে আসা বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। অভিযুক্ত কিশোরকে গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম ইতিমধ্যে অভিযান শুরু করেছে।
নানাবাড়িতে বেড়াতে আসা বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার শিশুটিকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। - মো. আমিনুল ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), পাগলা থানা
বর্তমানে শিশুটির শারীরিক ও মানসিক চিকিৎসা চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী পরবর্তী সব আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। অপরাধী কিশোর মাদ্রাসার ছাত্র হওয়ায় তার বিষয়ে সমাজকল্যাণমূলক আইনি প্রক্রিয়াও অনুসরণ করা হতে পারে।