

রাজধানী ঢাকায় গত কয়েক দিনে বিভিন্ন এলাকায় হামলা, ভাঙচুর ও জোরপূর্বক দখলচেষ্টার একাধিক ঘটনা ঘটলেও মূল অপরাধীরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিক্ষিপ্তভাবে কিছু দুষ্কৃতকারীকে আটক করলেও নেপথ্যের মূল হোতারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারির বাইরে থেকে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে এই ঘটনায় চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও প্রশাসনিক স্থবিরতার সুযোগ নিয়ে একটি প্রভাবশালী চক্র এই ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে এবং সাধারণ মানুষের জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দীর্ঘদিন ধরেই কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়ে আসছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে মাঠপর্যায়ে কার্যকর কোনো পরিবর্তন না আসায় অপরাধীদের মনোবল দিন দিন বেড়েই চলেছে।
ভুক্তভোগী এক ব্যবসায়ী বলেন, প্রকাশ্য দিবালোকে আমাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে দখল করার চেষ্টা করা হয়েছে। থানায় অভিযোগ দিলেও পুলিশ কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি, যার কারণে মূল অপরাধীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
রাজধানীর বিভিন্ন থানায় একের পর এক দখল ও হামলার অভিযোগ জমা পড়লেও তার খুব কম ঘটনারই সন্তোষজনক সুরাহা হয়েছে। অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপরাধীদের রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনা না করে আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা না গেলে এই নৈরাজ্য থামানো সম্ভব নয়। পুলিশের পক্ষ থেকে নিয়মিত টহল ও নজরদারি বাড়ানোর কথা বলা হলেও মাঠের বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন।
বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে যৌথ অভিযান পরিচালনার কথা ভাবা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি দ্রুততম সময়ের মধ্যে মূল অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার জোরালো দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।