

রাজধানীর উত্তরা এলাকায় রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড ও নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার ১৫ জনের পৃথক মেয়াদে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন ঢাকার মেট্রোপলিটন আদালত। আজ মঙ্গলবার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সেফাতুল্লাহ এই আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর তথ্য অনুযায়ী, আদালত ১৪ আসামিকে তিন দিন করে এবং এক নারী আসামির এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
ঘটনার পটভূমি বিশ্লেষণে জানা যায়, গতকাল সোমবার বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উত্তরা পশ্চিম থানার ৭ নম্বর সেক্টরের ২০ নম্বর সড়কে বরগুনা-২ আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য শওকত হাসানুর রহমান রিমনের বাসায় অভিযান চালিয়ে ওই ১৫ জনকে আটক করে পুলিশ। আজ তাঁদের আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক ইকবাল হোসেন। রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়, নিষিদ্ধঘোষিত বিভিন্ন সংগঠনের কর্মীরা রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে ষড়যন্ত্র ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
অভিযানের সময় ওই বাসার একটি কক্ষ থেকে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কাকচিড়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের পদপ্রত্যাশী ২০ জনের নাম ও জীবনবৃত্তান্ত সংবলিত ২০ পৃষ্ঠার নথি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত কাগজপত্রে আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের লোগো এবং দলীয় স্লোগান পাওয়া যায়। এই ঘটনায় উত্তরা পশ্চিম থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার নেপথ্য হোতাদের শনাক্ত করতে এই জিজ্ঞাসাবাদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন, মূল হোতা ও নেতৃত্বদানকারীদের শনাক্ত, অর্থের জোগানদাতাদের তথ্য সংগ্রহ এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। - মামলার তদন্ত কর্মকর্তা
শুনানি পর্বে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন আসামিদের রিমান্ডে নেওয়ার যৌক্তিকতা জোরালোভাবে তুলে ধরেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মোরশেদ হোসেন শাহীনসহ অন্যান্য আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল ও জামিনের প্রার্থনা জানান। উভয় পক্ষের আইনজীবীদের দীর্ঘ শুনানির পর আদালত আসামিদের রিমান্ড মঞ্জুরের এই আদেশ দেন। তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া ১৪ আসামির মধ্যে রয়েছেন মো. ইয়াকুব হোসাইন রাজিব, আরাফাত মিয়া, রিফাত হাওলাদার, হৃদয় হাসান, ফাহিম, রাজিব হোসেন রানা, মো. ফিরোজ, মো. আরিফ, মো. ওমর ফারুক, আবদুল্লাহ আল আমান, মো. আবদুল্লাহ আল নোমান, মো. সোহানুর হোসেন শাহীন, মো. হাসিব ও মো. হাসিব মিয়া। এ ছাড়া ফারজানা নামের অপর এক আসামিকে এক দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতি ও পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী উত্তরা এবং আশপাশের এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করেছে। পলাতক অন্যান্য সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তারে চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী রিমান্ডে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।