

ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের কাছ থেকে ১০টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী অক্টোবর মাসেই এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। দেশের এভিয়েশন খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সঙ্গে ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে ১১টি নতুন এবং পূর্বে ১৪টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। বর্তমান উদ্যোগের ফলে দেশের এভিয়েশন খাতে উড়োজাহাজের বহর আরও সমৃদ্ধ হবে। তবে এত বিপুল পরিমাণ উড়োজাহাজ একবারে বহরে যুক্ত হচ্ছে না, বরং সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই চুক্তিগুলো করা হচ্ছে।
দেশের এভিয়েশন খাতকে শক্তিশালী করা অত্যন্ত জরুরি। আমাদের ২০ কোটি মানুষের দেশে ভবিষ্যতে যাত্রী চাহিদা মেটাতে এবং লাভজনক অপারেশন নিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বর্তমান চুক্তির আওতায় প্রথম উড়োজাহাজটি ২০৩১ সালে হাতে পাওয়ার কথা রয়েছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে ২০২৭ বা ২০২৮ সালের মধ্যে অন্তত একটি উড়োজাহাজ সরবরাহ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। ২০৩৫ থেকে ২০৩৬ সালের মধ্যে সবকটি উড়োজাহাজ দেশের এভিয়েশন বহরে যুক্ত হবে। বর্তমান চুক্তির অধীনে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো অর্থ পরিশোধ করতে হচ্ছে না। উড়োজাহাজ সরবরাহের পর ফ্লিটের নিজস্ব আয়ের মাধ্যমেই এই অর্থ পরিশোধ করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বর্তমানে দেশের এভিয়েশন বহরে ১৯টি উড়োজাহাজ রয়েছে, যার মধ্যে দুটি গ্রাউন্ডেড হওয়ার উপক্রম এবং বাকি ১৭টির কার্যক্ষমতা আগামী ১০ বছরের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে। এয়ারবাস থেকে ১০টি এবং বোয়িং থেকে ২৫টিসহ মোট ৩৫টি নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হলে দেশের বহরে মোট উড়োজাহাজের সংখ্যা ৫০ ছাড়িয়ে যাবে। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বা অন্যান্য ব্যবসায়িক সমীকরণ ছাপিয়ে দেশের এভিয়েশন খাতের লাভজনক ও টেকসই উন্নয়নকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।