

আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের বর্তমান চক্রে দারুণ পারফর্ম করা বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে তাদের পরিকল্পনা সাজাচ্ছে। এই দুই গুরুত্বপূর্ণ সিরিজের আগে আফগানিস্তান টেস্ট ম্যাচকে ঘিরে স্কোয়াডে খুব বড় কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষার পথে হাঁটতে চাইছে না বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। চলতি চক্রে এখন পর্যন্ত ৬ ম্যাচে ৩ জয়, ২ হার ও ১ ড্র নিয়ে পয়েন্ট তালিকার চার নম্বরে অবস্থান করছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। দলের বর্তমান মোমেন্টাম ধরে রাখতে এবং জয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রাখাকেই সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে টিম ম্যানেজমেন্ট।
চলতি বছর ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়ে দুটি টেস্ট সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। আগামী ১৮ই অক্টোবর ঢাকায় পা রাখবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল। বসুন্ধরা স্পোর্টস কমপ্লেক্সে তিনদিনের প্রস্তুতি ম্যাচের পর ২৮শে অক্টোবর মিরপুরে শুরু হবে সিরিজের প্রথম টেস্ট। এরপর ৫ই নভেম্বর সিলেটে অনুষ্ঠিত হবে দ্বিতীয় টেস্ট। অন্যদিকে, নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে গিয়ে দুটি টেস্ট এবং তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে টাইগাররা। জোহানেসবার্গ ও সেঞ্চুরিয়নে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই সিরিজগুলোর জন্য এখন থেকেই নিজেদের প্রস্তুত করছে বোর্ড।
আসন্ন আফগানিস্তান টেস্ট ম্যাচ প্রসঙ্গে প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন জানান যে, দলের বর্তমান পারফরম্যান্সের ধারা নষ্ট করতে চায় না টিম ম্যানেজমেন্ট। পরীক্ষামূলক দল গঠনের চেয়ে জয় পাওয়াটাই তাদের মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন,
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে আমাদের যে টেস্ট সিরিজ আছে, সেটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সেটাকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে এগোচ্ছি। আফগানিস্তান টেস্ট ম্যাচ এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজকে আমরা খুব সিরিয়াসলি নিচ্ছি। আমার মনে হয়, আমরা ভালো একটা মোমেন্টামে আছি। সেই মোমেন্টামটা নষ্ট করতে চাই না।
দলের স্কোয়াড পর্যাপ্ত ভারসাম্যপূর্ণ হওয়ায় বড় স্বস্তিতে রয়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট। সাম্প্রতিক অস্ট্রেলিয়া সফরের কথা উল্লেখ করে প্রধান নির্বাচক জানান যে, দলের বেঞ্চের গভীরতা এখন অনেক বেশি। বড় খেলোয়াড়রা অনুপস্থিত থাকলেও জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে সক্ষম বাংলাদেশ দল। তবে এর অর্থ এই নয় যে নতুন মুখ একেবারেই দেখা হবে না। নির্বাচকদের পরিকল্পনা রয়েছে তিন থেকে চারজন নতুন ক্রিকেটারকে স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত করে তাদের সামর্থ্য যাচাই করে নেওয়ার, তবে ম্যাচ জয়ই হবে তাদের প্রথম অগ্রাধিকার।
দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে সেঞ্চুরিয়নে ১৮ বছর পর টেস্ট খেলার ঐতিহাসিক সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের সামনে। এছাড়া টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলে নিজেদের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করার দারুণ সুযোগ রয়েছে টাইগারদের সামনে। আফগানিস্তান টেস্টকে তাই বড় পরীক্ষার মঞ্চ না বানিয়ে বরং আসন্ন কঠিন সিরিজগুলোর প্রস্তুতি ও আত্মবিশ্বাস অর্জনের মাধ্যম হিসেবেই দেখছে বাংলাদেশ দল।